

সরকার মো.আবুল কালাম আজাদ-
বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) মনে করে অগ্রহায়ণ মাস কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এ মাসেই রবি মৌসুমের চাষাবাদ, বোরো মৌসুমের প্রস্তুতি এবং শীতকালীন সবজির পরিচর্যা একসঙ্গে চলতে থাকে। সঠিক পরিকল্পনা ও সময় মতো কাজ করলে কৃষকের উৎপাদন বাড়ে, খরচ কমে এবং সর্বোপরি কৃষি অর্থনীতি শক্তিশালী হয়। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দেশ ব্যাপী কৃষক ভাইদের জন্য নিম্নোক্ত করণীয় গুলো তুলে ধরা হ’ল

১) বোরো মৌসুমের প্রস্তুতি উন্নত, রোগমুক্ত ও নির্ভরযোগ্য বীজ নির্বাচন করা। উঁচু ও পানি নিষ্কাশন সুবিধাযুক্ত স্থানে বীজতলা তৈরি করা। বীজ শোধন করে পোকামাকড় প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ। বীজতলা পরিচর্যা, আগাছা দমন ও প্রয়োজনীয় সেচ নিশ্চিত করা। প্রধান জমিতে প্রথম চাষ দিয়ে শুকনো মাটিকে ঝুরঝুরে রাখা। সেচ পাম্প/টিউবওয়েল আগেভাগে মেরামত ও পরীক্ষা করা।
২) রবি মৌসুমের ফসল চাষ এ মৌসুমে দেশব্যাপী বিপুল পরিমাণ ফসল আবাদ হয়। সময়মতো বপন ও পরিচর্যা জরুরি। চাষযোগ্য ফসল: গম, ভুট্টা, সরিষা, মসুর, পেঁয়াজ, রসুন, চিনাবাদাম, সূর্যমুখী, আলু ইত্যাদি। করণীয়: গভীর চাষ ও জমি সমতল করা। জৈব সার/গোবর এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার প্রয়োগ। বীজ বপনের পর হালকা সেচ ও আর্দ্রতা বজায় রাখা। আগাছা পরিষ্কার করে রোগ-পোকার লক্ষণ পর্যবেক্ষণ।
৩) শীতকালীন সবজি চাষ ও পরিচর্যা অগ্রহায়ণ শীতকালীন সবজির জন্য সর্বোত্তম সময়। বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, বেগুন, মুলা, লাউ, শিম, শসা ইত্যাদির চারা রোপণ ও পরিচর্যা। মাচা তৈরির কাজ সম্পন্ন করা (লাউ, শসা, শিম)। রোগ-পোকার আক্রমণ কমাতে আইপিএম পদ্ধতি, ফেরোমন ট্র্যাপ, আলো ফাঁদ ব্যবহার। পানি জমে না থাকার জন্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। ফল ধরার সময় সামান্য বোরন দিলে ফলন বৃদ্ধি পায়।
৪) আমন ধান কাটা, মাড়াই ও সংরক্ষণ সময় মতো ধান কেটে রোদে ভালোভাবে শুকানো। আর্দ্রতা ১২–১৪% এ নামিয়ে নিরাপদে সংরক্ষণ। গোলা/বস্তায় সংরক্ষণের আগে প্রাকৃতিক দম-নাশক ব্যবহার করা। বাজার মূল্য যাচাই করে ধান বিক্রির পরিকল্পনা গ্রহণ।
৫) সার, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা আগাম সার সংগ্রহ করে রাখা যাতে সংকটে না পড়তে হয়। সঠিক ডোজ অনুযায়ী ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি প্রয়োগ। খাল-ডোবা পরিষ্কার করে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা। পানি সাশ্রয়ে ড্রিপ সেচ বা মালচিং ব্যবহার করা যেতে পারে।
৬) রোগ, পোকার দমন ও আগাছা ব্যবস্থাপনা সবজি ও রবি ফসলে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করা। ফল ছিদ্রকারী পোকা, এফিড, ভাইরাস জনিত রোগ দ্রুত শনাক্ত করতে হবে। রাসায়নিক ব্যবহার করার আগে জৈব ও বিকল্প পদ্ধতি প্রয়োগ করা উত্তম। আগাছা জন্মানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করা।
৭) পরিবেশ বান্ধব কৃষি উদ্যোগ বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন টেকসই কৃষিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। কম্পোস্ট সার ও জৈবসার তৈরি ও ব্যবহার। মাটির উর্বরতা বজায় রাখতে সবুজ সার আবাদ। অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার কমানো।
৮) পশুপালন ও খামার ব্যবস্থাপনা শীতের আগমন livestock ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। গরু-ছাগলকে ঠান্ডা থেকে রক্ষায় খড়/তুস বিছানো। শীত জনিত রোগ প্রতিরোধে হাঁস-মুরগির টিকাদান। আমন মৌসুমে পাওয়া খড় সংগ্রহ করে গোয়ালে সংরক্ষণ। পশুখাদ্যে খনিজ ও লবণ ব্লক ব্যবহার।
সভাপতি: বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন, উপদেষ্টা: দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, সংবাদ প্রতিক্ষণ, কৃষক লেখক ও কথক: বাংলাদেশ বেতার।
আপনার মতামত লিখুন :