আনোয়ারা-বাঁশখালী পিএবি সড়কটি যেন মরণ ফাঁদ


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১, ২০২২, ৬:২৮ অপরাহ্ন / ৪১০
আনোয়ারা-বাঁশখালী পিএবি সড়কটি যেন মরণ ফাঁদ

 

শেখ আবদুল্লাহ
আনোয়ারা(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি

চট্রগ্রাম দক্ষিণের আনোয়ারা-বাঁশখালী পিএবি আঞ্চলিক সড়কের কালাবিবি দিঘির মোড় থেকে তৈলারদ্বীপ ব্রীজ পযর্ন্ত নানা জটিলতা কারণে মরণ ফাঁদের পরিনত হয়েছে। নিত্যদিনের সড়ক দূর্ঘটনার হারিয়ে যাচ্ছে অনেক তাজা প্রাণ।সড়কটি দূর্ঘটনার এড়াতে কোন প্রকার উদ্যােগ নেননি উপজেলা প্রশাসনের।

১৪ জানুয়ারি শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে লাবিবা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে সড়ক দূর্ঘটনার আবদুল রহমান ( ২৪) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ২১ শে জানুয়ারি শুক্রবার রাত ১২ টার দিকে তৈলারদ্বীপ এলাকায় বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষের মোঃ আবদুল রহমান (২৪) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

০৫ আগষ্ট শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বরুমচড়া চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সড়ক দূর্ঘটনার নাম মিনহাজ(১৬) নিহত হয়েছে। আশরাফ আলী (৪৮) নামে এক ভ্যানচালক গুরুত্বর আহত হয়েছেন।২৬ সেপ্টেম্বর (সোমবার) ঝিওরী চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় কেইপিজেড শ্রমিকদের বহনকারি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে উলটে গিয়ে অনেকে আহত হয়েছে।৭ অক্টোবর (শুক্রবার) ঝিওরী চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় জিপের সাথে সিএনজির ধাক্কা, বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

১৪ অক্টোবর শুক্রবারের মাজার গেইট এলাকায় বেপরোয়া মাইক্রোবাসের ধাক্কায় দুটি সিএনজি উলটে গিয়ে ড্রাইভারসহ গুরুতর আহত ৫ হয়েছে।১৫ অক্টোবর শনিবারের ঝিওরী মাজার গেইট এলাকায় বেপরোয়া এস আলম বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা উলটে গিয়ে চালক আহত।

১১ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তৈলারদ্বীপ সরকার হাট সংলগ্ন পিএবি সড়কের রাস্তা পার হওয়ার সময় বেপরোয়া গাড়ি ধাক্কায় মারাত্মক জখমের শিকার তৈলারদ্বীপ বারখাইন এরশাদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী আসমা আক্তার মিতু।

সরেজমিনের পরিদর্শক করে দেখা যায়, আনোয়ারা-বাঁশখালী পিএবি সড়কের কালাবিবি দিঘির মোড় থেকে সরকার হাট পর্যন্ত ৮ টি স্পীড ব্রেকারে রয়েছে- চুলকাটা রাস্তা মাথা-২টি,মাজার গেট-২টি,বরুমছড়া রাস্তার মাথা- ২টি, সরকার কাঁচা বাজারের ২টি।

স্পীড ব্রেকারগুলোর আগে পরে নেই কোন প্রতিকী চিহ্ন, লেখা নেই কোন সতর্কবানী। এমনকি রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়নি ওই স্পীড ব্রেকারগুলো। কিছু কিছু স্পীড ব্রেকার এতো উঁচু যে, এগুলোর উপর দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় বেশ জোরে ঝাঁকুনির সৃষ্টি হয়। সড়কটি এতো দূর্ঘটনার শিকার হাওয়া পড়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ট্রাফিক পুলিশের কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কালাবিবির দীঘি মোড় থেকে তৈলারদ্বীপ সেতু পর্যন্ত সড়কের স্পিড ব্রেকার গুলোতে রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়নি, সড়কের তুলনায় যানবাহন চলাচল বেশি। সড়কটিতে যানবাহনের চাপ যত বেড়েছে সেই তুলনায় সড়ক ততটা প্রশস্ত হয়নি। সড়কটি সরু হাওয়া গাড়ি ওভারটেক করতে গিয়ে দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ) তোফায়েল মিয়া বলেন, সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্পীড ব্রেকারগুলো সড়ক থেকে করা হয়নি।সাধারণ মানুষজন নিজেদের মতো করে, দিয়েছে।আমরা মাঝে মধ্যে তাদেরকে নোটিশ করছি এবং স্পীড ব্রেকার গুলো তুলে দিয়েছি।সড়কের স্পীড ব্রেকার দেওয়া কোন সুযোগ নেই। সাধারণ মানুষজন পুনরায় তারা স্পীড ব্রেকার দিয়েছে। স্পীড ব্রেকার ব্যাপারে যদি জনগন সচেতন না হলে তাহলে বিষয়টি আরো কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। বঙ্গবন্ধু টানেল চালু হলে আনোয়ারা-বাঁশখালী পিএবি সড়কের দীর্ঘ যানজট এবং সড়ক দূর্ঘটনার সম্মুখীন হতে পারে। সড়কের যানবাহনের তুলনা প্রশস্ত সরু। সড়কটি প্রশস্ত বৃদ্ধি হাওয়া কোন পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি আরও জানান,টানেলের যানবাহন চলাচলের জন্য আনোয়ারায় সংযোগ সড়ক দিয়ে কালাবিবির দিঘি থেকে শিকলবাহা ক্রসিং পর্যন্ত ৬ লেন প্রশস্তে সড়কের কাজ চলমান। টানেল গাড়িগুলো ৬ লাইন দিয়ে ক্রসিং থেকে পটিয়া দিয়ে কক্সবাজারের যাবে।এই মুহূর্তে আমাদের প্রথম পরিকল্পনা হচ্ছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে সড়কে ৬ লাইন করা। আনোয়ারা-বাঁশখালী পিএবি সড়ক নিয়ে আমাদের এখন কোন পরিকল্পনা নেই।