

ব-দ্বীপ বাংলাদেশ ডেক্স-
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে বিশ্ব জুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হত্যার ঘটনাটি যে ভাবে ঘটেছে-শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তেহরানে আয়াতুল্লাহ খামেনির দপ্তরে (কম্পাউন্ড) ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী একটি বড় ধরনের সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযান (Operation Roaring Lion) পরিচালনা করে। আক্রমণের প্রকৃতি: এই অভিযানে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর নিখুঁত এবং ব্যাপক আকারের বিমান হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যান্য নিহতঃ হামলার সময় খামেনি তার শীর্ষ সহযোগীদের নিয়ে বৈঠকে ছিলেন। হামলায় তার সাথে আইআরজিসি (IRGC) কমান্ডার জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী শামখানি সহ বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিহত হন।
পরিবারের সদস্য: খামেনির পাশাপাশি তার মেয়ে, জামাতা এবং নাতিও এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনার পর ইরানে ৪০ দিনের শোক পালন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে, এই মৃত্যুতে তেহরানের রাস্তায় অনেককে উল্লাস করতেও দেখা গেছে, আবার অনেক সমর্থক শোক পালন করছেন মার্কিন আগ্রাসনে নিহত বিশ্বের আলোচিত রাষ্ট্রপ্রধানরা। বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে বারবার উঠে এসেছে বিভিন্ন স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের কালো অধ্যায়। গত কয়েক দশকে অনেক প্রভাবশালী নেতা মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী অবস্থান নেওয়ায় ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে ইতিহাসবিদ ও অবমুক্ত হওয়া সরকারি নথিতে প্রমাণিত হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও রাজনৈতিক সহিংসতা বৃদ্ধি বিশ্ব জুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন ষড়যন্ত্রে বা সরাসরি মদদে নিহত হওয়া বিশ্ব নেতাদের তালিকার শীর্ষে থাকা কয়েকজনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:
১. প্যাট্রিস লুমুম্বা (কঙ্গো, ১৯৬১) কঙ্গোর প্রথম গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী প্যাট্রিস লুমুম্বাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করা হয়ে ছিল। সিআইএ-র নথিতে দেখা গেছে, তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ার তাকে হত্যার সবুজ সংকেত দিয়ে ছিলেন Politico। যদিও শেষ পর্যন্ত বেলজিয়ামের সেনা ও স্থানীয় বিদ্রোহীদের হাতে তিনি নিহত হন, তবে পুরো পরিকল্পনায় সিআইএ-র সরাসরি হাত ছিল। ২. সালভাদর আলেন্দে (চিলি, ১৯৭৩) চিলির সমাজতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট সালভাদর আলেন্দে ১৯৭৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এক ভয়াবহ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন। এই অভ্যুত্থানের পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও হেনরি কিসিঞ্জারের সরাসরি ইন্ধন ও অর্থায়ন ছিল। যদিও ২০১১ সালের এক ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তিনি আত্মহত্যা করে ছিলেন, তবে তাকে সেই চরম পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়ার পেছনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য Britannica। ৩. রাফায়েল ত্রুহিলো (ডোমিনিকান রিপাবলিক, ১৯৬১) ডোমিনিকান রিপাবলিকের একনায়ক ত্রুহিলোকে তারই দেহরক্ষীরা গুলি করে হত্যা করে। পরবর্তীকালে জানা যায়, সিআইএ বিদ্রোহীদের অস্ত্র ও সহযোগিতা প্রদান করে ছিল কারণ ত্রুহিলো আর মার্কিন বলয়ে থাকতে চাচ্ছিলেন না। ৪. এনগো দিন দিয়েম (দক্ষিণ ভিয়েতনাম, ১৯৬৩) দক্ষিণ ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট দিয়েম এবং তার ভাই নহু এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন। সিআইএ এই অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত ছিল এবং তৎকালীন কেনেডি প্রশাসন এই হত্যাকাণ্ডকে মৌন সমর্থন দিয়েছিল। ৫. সাম্প্রতিক ঘটনা: আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও নিকোলাস মাদুরো। সাম্প্রতিক ঘটনাবলীতে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন । এ ছাড়া ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন অভিযানে আটক করা হয়েছে, যাকে তার সরকার সাম্রাজ্যবাদী আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেছে।
বিশ্লেষণ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সরকার পরিবর্তনের নীতি বা ‘রেজিম চেঞ্জ’ (Regime Change) কৌশলটি গত শতাব্দী থেকেই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। অনেক ক্ষেত্রে মার্কিন স্বার্থ রক্ষার দোহাই দিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্থিতিশীলতা নষ্ট করার অভিযোগ তুলেছেন অনেক বিশ্বনেতা ও মানবাধিকার কর্মীরা। (সংগৃহীত)

আপনার মতামত লিখুন :