[gtranslate]

গণভোট উপেক্ষা: বিপজ্জনক পরিস্থিতির জন্ম দেবে – আ স ম রব


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১, ২০২৬, ১১:৪৯ অপরাহ্ন / ৮১
গণভোট উপেক্ষা: বিপজ্জনক পরিস্থিতির জন্ম দেবে – আ স ম রব

ডেস্ক রিপোর্ট 

জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের রায় নিয়ে সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রেক্ষিতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব আজ বুধবার ( ১ এপ্রিল) গণমাধ্যমে প্রদত্ত এক বিবৃতি প্রদান করেন, বিবৃতিতে তিনি বলেন, রক্তাক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নে গণভোটের যে অঙ্গীকার ছিল, তা ছিল সুনির্দিষ্ট এবং সকল রাজনৈতিক দল কর্তৃক সমর্থিত। এই গণঅভ্যুত্থান কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনা নয়; বরং এটি ছিল জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস পুনর্নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক প্রয়াস।
এটি কোনো সাধারণ কৌশলগত ঘটনা ছিল না; বরং ছিল ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রতি একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। আজ সেই অবস্থান থেকে বিচ্যুতি কেবল নিছক মতপার্থক্য নয়, বরং এটি জনগণের সঙ্গে সম্পাদিত ‘সামাজিক চুক্তি’র (Social Contract)-এর চরম অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে।
নতুন ধারার রাজনীতির দৃষ্টিতে রাষ্ট্রের বৈধতা জনগণের সরাসরি সম্মতি ও অংশগ্রহণ থেকেই উদ্ভূত হয়। সেই অর্থে জাতীয় সনদ কেবল একটি নীতিপত্র নয়—এটি শ্রমজীবী, কর্মজীবী ও পেশাজীবী জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ঐতিহাসিক বাস্তবতায় জাতীয় সনদ হলো গণ-আকাঙ্ক্ষার দর্পণ। এর চূড়ান্ত ও নৈতিক বৈধতা কেবল জনগণের সরাসরি রায় থেকেই আসতে পারে,অন্য কোনো প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কখনোই এই জনসম্মতির বিকল্প হতে পারে না।
অতএব, গণভোটকে পাশ কাটিয়ে বা অন্য কোন প্রক্রিয়ায় সনদ বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলে তা অন্তর্ভূক্তিমূলক গণতন্ত্রের ধারণার পরিপন্থী হবে এবং অভ্যন্তরীণ পরাধীনতার ধারাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।
ক্ষমতাসীন সরকার যদি গণভোটের রায়ের বাধ্যবাধকতাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বা ভিন্ন কোনো অজুহাতে তা স্থগিত করে, তবে তা অনিবার্যভাবে গভীর ‘জন-আস্থার সংকট’ তৈরি করবে।
জাতির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে—অদলীয় সমাজশক্তির সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া যেমন ফ্যাসিবাদ উৎখাত সম্ভব নয়, তেমনি একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার টেকসই ভিত্তিও গড়ে ওঠে না; এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করা মানে গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকেই অস্বীকার করা।
গণতন্ত্রে ক্ষমতার একমাত্র উৎস জনগণ। জনমতকে পাশ কাটিয়ে বা জনগণকে আড়ালে রেখে স্থিতিশীলতা অর্জনের চেষ্টা সর্বদা আত্মঘাতী প্রমাণিত হয়েছে। ইতিহাস আমাদের এই কঠোর শিক্ষাই দেয় যে—যখনই রাষ্ট্র ও রাজনীতির মধ্যে দূরত্বের দেয়াল তৈরি হয়েছে, তখনই তা ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে।
আজকের প্রশ্ন কেবল গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মূল প্রশ্ন হলো—রাষ্ট্র কি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে, নাকি আবারও একটি সীমাবদ্ধ দলীয় কাঠামোর ভেতরে আবদ্ধ হয়ে পড়বে।
ঘোষিত অঙ্গীকার রক্ষা করাই এখন সরকারের রাজনৈতিক সততার একমাত্র মানদণ্ড। এটি কেবল কোনো দলীয় অবস্থান নয়, বরং গণতন্ত্র, জনমত ও জুলাই বিপ্লবের চেতনার প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্ন।
তাই জনমত উপেক্ষা করে কোনো হঠকারী পথে না গিয়ে জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য তিনি সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।