[gtranslate]

গুনাহার জমিদার বাড়িটি কালের সাক্ষী হয়ে আছে


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৪, ২০২৬, ৯:৫৮ অপরাহ্ন / ২৫
গুনাহার জমিদার বাড়িটি কালের সাক্ষী হয়ে আছে

এম আব্দুর রাজ্জাক, স্টাফ রিপোর্টার-

বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার গুনাহারে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও নান্দনিক স্থাপনা হলো গুনাহার সাহেব বাড়ি বা জমিদার বাড়ি ।

গুনাহারের এই জমিদার বা সাহেব বাড়িটি খাঁন বাহাদুর মোতাহার হোসেন খানের। খাঁন বাহাদুর মোতাহার হোসেন খাঁন দুই পুত্র ও ৫ কন্যার জনক। তিনি ব্রিটিশ সরকারের অধীনে বাংলা বিহার, উড়িৎষার এক্সরসাইজ কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ছিলেন সৌখিন এবং সৌন্দর্যের পুজারী জমিদার। তাইতো যখন এ দেশে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা ছিল কোন অপ্রত্যাশিত স্বপ্ন পূরণের আশা। ঠিক সেই সময় ১৯৩৯ সালে তিনি গুনাহারের মতো নিভৃত পল্লীতে নির্মাণ করেন রাজ প্রাসাদতুল্য দ্বিতল বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন এবং বিলাসবহুল ভবন।

ভবনের চারপাশ ঘিরে খনন করা হয়েছিলো বিশাল নিরাপত্তা দিঘী। এই দিঘীতে জমিদার পরিবারের সদস্যরা বিকেলে নৌ-ভ্রমন করতেন। পাশাপাশি জমিদার বাড়ীর পশ্চিম পার্শ্বে বিশাল একটি ঘাট বাঁধানো দর্শনীয় পুকুর ছিলো। এই পুকুরেই জমিদার পরিবারের সদস্যরা গোসল করতেন। পুকুরের পশ্চিম দক্ষিণে বিশাল উচু সীমানা প্রাচীর ছিলো যা আজ ক্ষত বিক্ষত অবস্থায় কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

বাড়ীর ভিতরের সৌন্দর্যের কথা বলে শেষ করার নয়। যে সৌন্দর্যের কারনে বাড়ীটি দেখতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে আসতেন অগণিত মানুষ ও পর্যটক। খাঁন বাহাদুর মোতাহার হোসেন ১৯৫২ সালের ২ জুলাই তিনি নিজ বাস ভবনে ইন্তেকাল করেন। তিনি জীবদ্দশায় নিজের পরিবার পরিজনদের চেয়ে প্রজাসাধারণের সুখের কথা বেশী ভাবতেন। আর সে কারনে তার মৃত্যুর পরও তার কর্মযজ্ঞের স্মৃতি আজও তাকে অমর করে রেখেছেন।

বর্তমানে বাড়ীটি মোতাহার হোসেন খাঁন সাহেবের চতুর্থ ও ৫ম কন্যাদ্বয় চির কুমারী রওশন মহল ও জৈলুশ মহলের নামে রেকর্ডকৃত এবং তারাই বিশেষ করে বগুড়া শহরে অবস্থানরত চিরকুমারী রওনক মহল বাড়ীটি নিজ দায়িত্বে দেখাশুনা ও সংস্কার কাজ সমাধান করে থাকেন। এদিকে প্রায় ৩ যুগের ও বেশী সময় ধরে সংস্কার না হওয়ায় কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই বাড়ীটি আজ প্রায় ধ্বংস হতে চলেছে।