

বিশেষ প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাখায় দায়িত্ব কারা পালন করে তা জানিয়েছেন জাওয়াদ নির্ঝর। শনিবার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমনটা দাবি করেন।
ওই পোস্টে জাওয়াদ নির্ঝর লেখেন, ‘পরিচয় করিয়ে দিই, চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাখা ট্রাফিক বিভাগের পরিচালক (অপারেশন) এনামুল করিম সুমনের সাথে।
# এনামুল করিমের মায়ের সাথে আ স ম আবদুর রবের সাথে সুসম্পর্ক ছিল।
আব্দুর রব ৯৬ সালে নৌপরিবহনমন্ত্রী থাকাকালে মায়ের অনুরোধে চাকরি হয় এনামুলের। তাতেই কপাল খোলে তার। এরপর ক্ষমতার পটপরিবর্তনের হলে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে নানা অপকর্ম করতে থাকে। গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিজেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দিতেন।
বর্তমানে নিজেকে জামায়াত এবং বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেন।
# ১৭ বছর ধরে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে বন্দরের পরিবহনসংক্রান্ত সব অবৈধ লেনদেনের নিয়ন্ত্রণ করেন।’
তিনি লেখেন, ‘বন্দরে যত শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োগ হয় সবগুলোর নিয়োগের নেপথ্যে রয়েছেন এনামুল।
প্রতি নিয়োগ থেকে তিনি ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা ঘুষ নেন। এ নিয়োগ প্রক্রিয়া তার তিনি তার বিশ্বস্ত এজেন্টের মাধ্যমে করেন। তারা হলেন বন্দর শ্রমিক কর্মচারী লীগ (রেজিস্ট্রেশন) ২৭৪৭ সভাপতি মীর নওশাদ, সাধারণ সম্পাদক মো আলমগীর এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল চৌধুরীর মাধ্যমে।
# বন্দরের অকশন ইয়ার্ডের অংশীদার রয়েছে এনামের। যা বেনামে রয়েছে।
# জেটিতে উঠা-নামা করা সব কনটেইনারের নির্দিষ্ট অংকের টাকা যায় এনামুলের পকেটে। এই আলাদা টাকা না দিলে নানা মারপ্যাচে আটকে রাখা হয় কনটেইনার।
# বন্দরের আসা প্রায় প্রত্যেকটি ফাইল নিজেই তদারকি করেন। প্রতি ফাইলের ছাড়পত্রের জন্য তিনি জন্য সর্বনিম্ন ৫ হাজার থেকে শুরু করে কোটি টাকা পর্যন্ত। এসব তদারকি করেন তার ব্যক্তিগত পিএস সুজন। এ সুজনের বাড়ি গোপালগঞ্জে। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির লোক হিসেবে দাপট দেখাতেন। এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে তিনি।’
তিনি আরো লেখেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া, বহির্নোঙর ও অন্যান্য বিশেষায়িত জেটিতে শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর সংক্রান্ত ২৩টি লাইসেন্স প্রদান করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। তার মধ্যে একটি লাইসেন্স নেন এনামুল করিম। এ লাইসেন্সেরর একটি অংশের মালিকানা রয়েছে আরসাদুল আলম বাচ্চুর। এ বাচ্চু সাবেক হুইপ শামসুল হকের ছেলে শারুনের ব্যাবসায়িক পার্টনার।
# বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাচ্চু কনটেইনারে করে সোনা ও অবৈধ পণ্যের চালান আনত বলে অভিযোগ রয়েছে। তার এ কাজে সহযোগিতা করত এনাম। সহায়তার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ নিতেন।
# গোয়েন্দা সংস্থার দাবি আটশো থেকে ১ হাজার কোটি টাকার মালিক এনামুল করিম সুমন। বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন। আমেরিকায় তার বাড়ি এবং বিনিয়োগ রয়েছে। দেশেও নামে এবং বেনামে প্রচুর সম্পত্তি এবং ব্যবসা রয়েছে।’
আপনার মতামত লিখুন :