[gtranslate]

চাহিদা বাড়লেও কোচ নয়, বাড়ছে ট্রিপ—যাত্রী চাপ সামলাতে নতুন পরিকল্পনায় মেট্রোরেল


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৫, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন / ২১২
চাহিদা বাড়লেও কোচ নয়, বাড়ছে ট্রিপ—যাত্রী চাপ সামলাতে নতুন পরিকল্পনায় মেট্রোরেল
ডেস্ক রিপোর্ট :

রাজধানীবাসীর দ্রুতগতির পরিবহন হিসেবে অল্প সময়েই জনপ্রিয়তা পেয়েছে মেট্রোরেল। বিদ্যুৎচালিত এই পরিবহন প্রতিদিন সাড়ে তিন লাখ থেকে চার লাখ যাত্রী বহন করছে। বিশেষ দিনগুলোতে এই সংখ্যা সাড়ে চার লাখ ছাড়িয়ে যায়। প্রকল্পের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল উত্তরা-মতিঝিল-উত্তরা রুটে ঘণ্টায় ৬০ হাজার এবং দিনে পাঁচ লাখ যাত্রী পরিবহন। প্রায় আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই সেবায় যাত্রী সংখ্যা ক্রমেই বাড়লেও ট্রেনের আসন সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকায় একই সময়ে বেশি যাত্রী বহন সম্ভব হচ্ছে না।

এ অবস্থায় যাত্রী চাহিদা মেটাতে নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। প্রতিষ্ঠানটি উত্তরা-মতিঝিল-উত্তরা রুটে দৈনিক আরও ১০টি ট্রিপ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে মেট্রোরেল দিনে প্রায় ২০০ বার যাতায়াত করে। নতুন ট্রিপ যুক্ত হলে অতিরিক্ত ২৩ হাজার যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডিএমটিসিএলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে অনেক সময় যাত্রীদের জায়গা দেওয়া সম্ভব হয় না। মন্ত্রণালয় থেকেও ট্রেন সংখ্যা বাড়ানোর জন্য চাপ রয়েছে। তবে ট্রেনের কোচ সংখ্যা আপাতত বাড়ানো যাচ্ছে না।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মেট্রোরেলের প্রতিটি সেটে ৬টি কোচ রয়েছে, যা ভবিষ্যতে ৮ কোচে উন্নীত করার পরিকল্পনা থাকলেও তিনটি কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। প্রথমত, অতিরিক্ত কোচের জন্য প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর (পিএসডি) বসানো হয়নি। দ্বিতীয়ত, এ কাজে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন। তৃতীয়ত, বাড়তি কোচ চালাতে আরও বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে, যা বিদ্যমান ওভারহেড ক্যাটেনারি লোড সামলাতে পারবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। ফলে আপাতত শুধুমাত্র ট্রিপ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন ১০টি ট্রিপের মধ্যে প্রথমটি সকাল সাড়ে ৬টায় উত্তরা থেকে চালু হবে। বর্তমানে উত্তরা থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়ে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে এবং মতিঝিল থেকে সকাল সাড়ে ৭টায়। নতুন সূচিতে রাতে শেষ ট্রেনও ছাড়বে আরও দেরিতে। উত্তরা থেকে রাত ৯টা ১০, ৯টা ২০ ও ৯টা ৩০ মিনিটে এবং মতিঝিল থেকে রাত ৯টা ৫০, ১০টা ও ১০টা ১০ মিনিটে ট্রেন ছাড়ার প্রস্তাব রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই এই নতুন ট্রিপ চালু হবে।

তবে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা কোচ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘মেট্রোর পরিকল্পনায় শুরু থেকেই ৮ কোচের হিসাব ধরা হয়েছিল। এখন কোচ বাড়ানোর ক্ষেত্রে নানা টেকনিক্যাল কারণ দেখানো দুঃখজনক। প্ল্যাটফর্মগুলোও ৮ কোচের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। তাই আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ট্রিপ বাড়ালে বিদ্যুৎ খরচও অনেক বেড়ে যাবে। ‘মেট্রো একটি এনার্জি-হাঙরি পরিবহন ব্যবস্থা। হেডওয়ে মাত্র এক মিনিট কমালেই বিদ্যুৎ খরচ প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। তাই যাত্রী চাহিদা মেটাতে কোচ বাড়ানোই বেশি কার্যকর সমাধান।’

মেট্রোরেলে নতুন ট্রিপ যোগের উদ্যোগ যাত্রীদের জন্য স্বস্তির হলেও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদে প্রকৃত সমাধান হিসেবে কোচ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ রয়েছে।