[gtranslate]

ফেনীর পরশুরামে জোরপূর্বক কৃষকের ভিটেবাড়ি দখলের অভিযোগ


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৮, ২০২৩, ১১:২৭ অপরাহ্ন / ৬৭২
ফেনীর পরশুরামে জোরপূর্বক কৃষকের ভিটেবাড়ি দখলের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার ঃ

ফেনীর পরশুরামে জোরপূর্বক ছেরাজুল হক নামের এক কৃষকের ভিটেবাড়ি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠছে স্থানীয় প্রভাবশালী পেয়ার আহম্মদ পাটোয়ারী নামের এক এজেন্সি মালিকের বিরুদ্ধে।গটনাটি ঘটেছে পরশুরামের বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের উত্তর তালবারিয়া গ্রামে।

অভিযুক্ত এজেন্সি মালিক বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের তালবারিয়া গ্রামের মৃত আলি নেওয়াজ এর ছেলে। পেয়ার আহম্মদ পাটোয়ারী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব কাটিয়ে নানানভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ছেরাজুল হকের ভিটেবাড়িতে থাকা গাছপালা কাটিয়ে গাইড ওয়াল তুলে জমি দখল করছে বলে অভিযোগ ভোক্তভাগী পরিবারের। এনিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করলে আদালত থেকে কাজ বন্ধের আইনী নোটিশ দিলেও তিনি তা কর্ণপাত না করেই জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। জানা যায় অভিযুক্ত পেয়ার আহম্মদ পাটোয়ারী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল গফুর মজুমদারের ঘনিষ্ঠ আত্নীয় হওয়ায় এবং রাজনৈতিক নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রভাব কাটিয়ে জোরপূর্বক কৃষকের এই জমি দখল করে নিয়েছে।

এনিয়ে ভুক্তভোগী ছেরাজুল হক জানান, তার দাদা মৃত বাদশা মিয়া ১৯৬৩ সাল থেকে ওই জমিটি ভোগ করে আসছেন। দাদা মারা যাওয়ার পর ওয়ারিশ সূত্রে তার বাবা ও তার দুই ভাই তিন বোন ওই জমির মালিক হয়। দাদার সম্পদ ভাগবাটোয়ারার পরে ছেরাজুল হকের বাবা সোলতান আহমদের অংশে পরে ওই জমি। পাশে ছিল বলাই চক্রবতি নামের এক হিন্দু পরিবারের ৩৪ শতাংশ জমি। যা পরে তিনি অভিযুক্ত পেয়ার আহম্মদ পাটোয়ারীর কাছে বিক্রি করেন। পেয়ার আহম্মদ পাটোয়ারী ৩৪ শতাংশ জমি কেনার পর থেকে আশপাশের জমি দখলের জন্য মাতোয়ারা হয়ে পরেন। তিনি ছেরাজুল হকের দখলীয় জমিও নিজের জমি বলে দাবী করতে থাকে এবং জোরপূর্বক সেখানে থাকা বিভিন্ন ফল গাছ সহ অন্যান্ন গাছগুলো কেটে ইট দিয়ে দালান তুলতে শুরু করে। এইসময়ে তাকে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাড়িঘরে থাকতে দিবে না বলে নানানভাবে হুমকি দিতে থাকে।
ছেরাজুল হক বলেন, আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানিয়ে সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে কাগজপত্র অনুযায়ী যদি উনি এই জমির মালিক হন, তাহলে আমরা দিয়ে দিবো, এটাও বলেছি কিন্তু তিনি কারো কোন কথা কর্ণপাত না করে ২০-৩০ জন কর্মচারী দিয়ে গাইড ওয়াল তুলতে শুরু করেন । পরে আমরা এনিয়ে একটা মামলা করি।
ওই মামলায় ফেনী জজকোর্ট থেকে কাজ বন্ধের জন্য আইনী নোটিশ পেয়ে পরশুরাম থানা পুলিশ এসে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও তিনি কাজ বন্ধ করেন নি। তিনি হামলা, মামলা করে পুলিশি হয়রানি করবে। বাড়িঘর ছাড়া করবে বলে প্রতিনিয়ত আমাদের নানানভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

মোঃ ইউনুস নামের এক প্রতিবেশি জানান, পেয়ার আহম্মদ পাটোয়ারী আমার ঘরের দরজার সামনে গাইড ওয়াল তুলে দিয়ে আমার ঘর থেকে বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। আমি একটি সরকারি চাকরি করি ওনাকে অনেকবার ফোন করে বলেছি আমি অন্যকোন দিক দিয়ে ওনাকে কিছু জায়গা ছেড়ে দিবো, আমাকে ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য দুই থেকে তিন হাত জায়গা রেখে গাইড ওয়াল করতে। কিন্তু ওনি আমাকে ঘর কেন করছি বলে আরও গালমন্দ করে। ওই পথ দিয়ে আমাদের ১২টি পরিবারের যাতায়াতের জন্য একটা রাস্তা ছিলো কিন্তু ওনি এখন গাইড ওয়াল তুলে তা বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা পরিবারের সদস্যরা এখন ঘর থেকে বের হওয়ার রাস্তাও নেই।আমাদের ঘরের পিছন দিক দিয়ে বের হয়ে হাটবাজারে যেতে হচ্ছে।

অভিযুক্ত পেয়ার আহম্মদ পাটোয়ারী বলেন, আমি দখলদারি কিনা আগে জেনে নিয়েন। আমার বিরুদ্ধে যেই অভিযোগ দিচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি এখনো তাদের কাছে আরও এক গন্ডা পাবো। পুলিশ কাজ বন্ধ করে নাই পুলিশ এসেছিলো কোন প্রকার আইনশৃঙ্খলার অবনতি যাতে না হয় সেই বিষয়ে অবগত করতে। বেশি বাড়াবাড়ি করতে না করেন। ওরা ছিলো ভারতে। ওরা রোহিঙ্গা এ না। বেশি বাড়াবাড়ি করলে অসুবিধা হবে।

ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল গফুর চৌধুরী জানান, আমি খতিয়ানের কপিগুলো দেখেছি। এখানে পাঁচটি দাগ হওয়ায় কিছু সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মামলা যেহেতু হয়েছে সেটা আইন অনুযায়ী চলবে। আইনের গতি অনুযায়ী যে জমির প্রকৃত মালিক সে পাবে। আদালত থেকে কাজ বন্ধের নোটিশ পাওয়ার পরে কাজ চলমান আছে কিনা সেই বিষয়ে আমি জানি না। এটা
কাগজপত্রের কাজ।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) এই বিষয়টি তদন্ত করবে। এখানে রাজনৈতিক নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর সুযোগ নাই।

পরশুরাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, আইনী নোটিশ পাওয়ার পরে আমরা পুলিশ পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে কাজ চলমান আছে কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে এবিষয়ে আমাদের কাছে কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা শমসাদ বেগম বলেন, কাজ বন্ধের আইনী নোটিশ পাওয়ার পরেও কাজ যদি চলমান থাকে সরজমিনে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।