

স্পোর্টস ডেস্ক:
ব্যাটারদের মধ্যে কেউই বড় ইনিংস গড়তে পারেননি। কেবল সাইফ হাসান কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও, অন্য প্রান্তে ছিলেন একেবারেই নির্ভরযোগ্য সঙ্গীহীন। তিনি ৫৪ বলে ৪৩ রানের ইনিংস খেলেন (২ চার, ৩ ছক্কা)। বাকিরা ছিলেন একেবারে ব্যর্থ। ওপেনার মোহাম্মদ নাইম ধীরগতিতে ২৪ বলে ৭ রান করেন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (৩), তরুণ তাওহীদ হৃদয় (৭) ও মেহেদী হাসান মিরাজ (৬) একে একে দ্রুত বিদায় নেন। বাকি কেউই দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি।
বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় মাত্র ২৪ ওভার ৪ বলে ৯৩ রানে। ফলে ২০০ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয় সফরকারীরা।
আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণে ছিলেন আগুনঝরা। লেগ স্পিনার রশিদ খান ৩ উইকেট নেন, তবে দিনের সেরা পারফরম্যান্স দেন পেসার বিলাল সামি, যিনি একাই ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ধস নামান বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনে।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত সূচনা পায় আফগানিস্তান। ওপেনার রহমতুল্লাহ গুরবাজ ৪২ রান করে তানভির ইসলামের বলে এলবিডব্লিউ হন। অন্যপ্রান্তে ইব্রাহিম জাদরান খেলেন ধৈর্যশীল কিন্তু কার্যকর ইনিংস—১১১ বলে ৯৫ রান, ৭টি চার ও ২টি ছক্কা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউট হয়ে তিনি সেঞ্চুরির আক্ষেপ নিয়েই ফিরেন।
মাঝপথে কিছুটা বিপাকে পড়লেও শেষদিকে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবি। মাত্র ৩৭ বলে ৬২ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৫টি ছক্কা। তাঁর সঙ্গে ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন আজমাতউল্লাহ ওমরজাই (২০) ও নূর আহমেদ খারোতে (১০)।
শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তান নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৯৩ রান তোলে।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন সাইফ হাসান, যিনি ৪ ওভারে ১ মেডেনসহ মাত্র ৬ রান খরচ করে ৩ উইকেট নেন। তানভির ইসলাম ও হাসান মাহমুদ নেন ২টি করে উইকেট, আর মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ১টি উইকেট।
এই জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আফগানিস্তান। অন্যদিকে, ব্যাটিং বিপর্যয় আর আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভোগা বাংলাদেশের জন্য এটি এক কঠিন শিক্ষা ও লজ্জাজনক অধ্যায়।
আপনার মতামত লিখুন :