

সরকার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ-
বিলম্বী ফল পরিচিতি:
আমাদের দেশের গ্রাম–গঞ্জে বিলম্বী গাছ খুবই পরিচিত। ফলটি দেখতে ছোট, শসার মতো লম্বাটে এবং বেশ টক স্বাদের। ভর্তা, আচার, রান্না-যেখানেই ব্যবহার করুন, স্বাদে আলাদা একটি টান দেয়। শুধু খাবারেই নয়, এটিকে ঘরোয়া চিকিৎসা ও আয়ুর্বেদেও ব্যবহার করা হয়।
বিলম্বীর উপকারী দিক:
১) সর্দি-কাশি কমায় বিলম্বীতে প্রচুর ভিটামিন সি আছে। নিয়মিত অল্প পরিমাণে খেলে সর্দি–কাশি সহজে হয় না।
২) রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাদের জন্য এই ফল উপকারী। ফলে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
৩) ডায়াবেটিস রোগীর জন্য কিছুটা সহায়ক ফল ও পাতার রস রক্তে শর্করা কিছুটা কমাতে পারে। তবে অবশ্যই পরিমিত সেবন জরুরি।
৪) হজমে উপকারী খাবার হজম করতে সাহায্য করে। গ্যাস, অম্বল, বদহজম কমায়-যদি খুব বেশি না খাওয়া হয়।
৫) ত্বকে উপকার দাগ, ব্রণ বা মুখের কালচে ভাব কমাতে বিলম্বীর রস কার্যকর।
৬) প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে পাতা ও ফলে থাকা উপাদান শরীরের ছোটখাটো ব্যথা বা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
৭) ওজন নিয়ন্ত্রণে ভালো এতে ক্যালরি কম-তাই বেশি মোটা হওয়ার ভয় নেই।
বিলম্বীর অপকারী দিক:
১) কিডনির জন্য ঝুঁকি বিলম্বীতে অক্সালিক এসিড বেশি। বেশি খেলে কিডনিতে পাথর হতে পারে। কিডনি রোগী ও ডায়াবেটিস রোগীদের খুব সাবধানে খেতে হবে।
২) দাঁতের ক্ষতি করতে পারে অতিরিক্ত টক বলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়।
৩) অতিরিক্ত খেলে পেট খারাপ গ্যাস্ট্রিক, অম্বল, ডায়রিয়া
পেটে জ্বালা, হতে পারে।
৪) গর্ভবতীদের অস্বস্তি বমিভাব ও এসিডিটি বাড়াতে পারে তাই খুব অল্প খাওয়া উচিত।
৫) ত্বকে এলার্জি হতে পারে যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তাদের জ্বালা বা লালভাব দেখা দিতে পারে।
আয়ুর্বেদিক ব্যবহার:
১) উচ্চ রক্তচাপে ১ চা–চামচ বিলম্বীর রস হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে সকালে খাওয়া হয়।
২) কাশিতে পাতার রস সামান্য মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে কাশি কমে।
৩) জ্বরে ব্যবহার পাতা পানিতে সেদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে শরীর মুছলে জ্বরের তাপ কমে।
৪) ত্বক পরিচর্যায় ফলের রস মুখে লাগালে দাগ–ছোপ কমে-তবে আগে হাতে একটু পরীক্ষা করে নিতে হবে।
৫) হজম শক্তি বৃদ্ধি লবণ দিয়ে এক–দুই টুকরো বিলম্বী চিবিয়ে খেলে হজম ভালো হয়।
বিলম্বীর ভর্তা রেসিপি: যা লাগবে:
বিলম্বী-৮–১০ টি, কাঁচা মরিচ-২–৩ টি, পেঁয়াজ কুচি- একটু, লবণ-স্বাদ মতো, সরিষার তেল-১ চা–চামচ
যে ভাবে করবেন:
১) বিলম্বী সামান্য পানি দিয়ে সেদ্ধ করে নরম করুন।
২) পানি ঝরিয়ে কাঁটা চামচ দিয়ে চটকে নিন।
৩) পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, লবণ ও তেল দিয়ে মাখিয়ে নিলেই হয়ে গেল সু-স্বাদু ভর্তা। ভাতের সঙ্গে দারুণ লাগে।
বিলম্বীর আচার রেসিপি: উপকরণ:
বিলম্বী-১ কেজি, সরিষার তেল-২ কাপ, লাল মরিচ গুঁড়া- ৩ টেবিল চামচ, সরিষা গুঁড়া-২ টেবিল চামচ, লবণ-আধা কাপ, রসুন-১০–১৫ কোয়া, মেথি ও জিরা-১ চা–চামচ করে।
প্রস্তুত প্রণালি:
১) বিলম্বী ধুয়ে আধা দিন রোদে শুকিয়ে নিন।
২) তেলে রসুন ভেজে তুলে নিন।
৩) মেথি–জিরা ভেজে গুঁড়া করুন।
৪) একই তেলে বিলম্বী হালকা ভাজুন।
৫) ঠান্ডা তেলে সব মসলা, রসুন ও বিলম্বী এক সঙ্গে মিশিয়ে কাঁচের বোতলে ভরুন।
৬) রোদে ২–৩ দিন রাখলে আচারের স্বাদ জমে উঠবে।
ঠিক ভাবে সংরক্ষণ করলে এক বছর পর্যন্ত ভালো থাকে।
সঠিক ভাবে খাওয়ার পরামর্শ: অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না।
সপ্তাহে ২–৩ দিন অল্প পরিমাণে খাওয়া ভালো। কিডনি, পাথর, গ্যাস্ট্রিক ও আলসার রোগীরা খুব সাবধানে বা এড়িয়ে চলবেন। ত্বকে ব্যবহারের আগে পরীক্ষা করে নিন।
কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার ও কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন।

আপনার মতামত লিখুন :