[gtranslate]

রাষ্ট্র সংস্কার কেন??


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১১, ২০২৪, ১০:২০ অপরাহ্ন / ৮২
রাষ্ট্র সংস্কার কেন??

আহমেদ ফজলুর  রহমান মুরাদ

দেশে পরোক্ষ গণতন্ত্রকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে রূপান্তর করতে হবে। কারণ, পরোক্ষ গণতন্ত্রে বিশেষ গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতা পুঞ্জীভূত হয়। নির্বাহী বিভাগ, সংসদ, বিচারব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে হবে। এখন দেশের সব রাষ্ট্রীয় অঙ্গ নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্বে রয়েছে। নির্বাহী বিভাগের এ ধরনের কর্তৃত্ব থাকলে উদারনৈতিক গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটে।

শাসনতান্ত্রিক পদ্ধতির পরিবর্তন, ভোটব্যবস্থার সংস্কার, শাসনতান্ত্রিক বিধান ছাড়াই গণভোটের প্রবর্তন, ভোটের আনুপাতিক হারে প্রতিনিধি নির্বাচন পদ্ধতি প্রবর্তনের প্রস্তাব সময়োপযোগী। আমাদের সংবিধানে চারটি স্তম্ভ আছে। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মনিরপেক্ষতা, যে দেশে গণতন্ত্র নেই, সে দেশে টেকসইভাবে ধর্মনিরপেক্ষতা চালু করা সম্ভব নয়।’

সমাজতন্ত্রের জন্যও গণতন্ত্র প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক পদ্ধতির বাইরে যে সমাজতন্ত্র, সেটি জোর করে চাপিয়ে দেওয়া এবং সেটি টেকসই না–ও হতে পারে। আর বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদ লালিত–পালিত এবং বিকশিত হয়েছে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্যে। সুতরাং বাংলাদেশের যে লক্ষ্য, সেটি অর্জনে একটি বিষয়ই দরকার, সেটি হলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু এই গণতন্ত্রের পথে অনেক বাধা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক বিবর্তন হচ্ছে।বাংলাদেশকে এর থেকে সবক নিতে হবে।।

তরুণেরা সমাজ পরিবর্তনের জন্য যেসব ছোট উদ্যোগ নিয়েছেন তা খুবই দরকারি। কিন্তু সত্যিকারে দেশের পরিবর্তন করতে হলে রাষ্ট্রের কাঠামো পরিবর্তন ও সংস্কারের কথা ভাবতে হবে। রাষ্ট্রের সংস্কার করা না গেলে বিচ্ছিন্নভাবে ছোট ছোট সংস্কার কাজে আসবে না। দায়িত্বশীল নাগরিক হতে হবে। এজন্য ব্যক্তি উদ্যোগ, যৌথ চেষ্টা ও সামাজিক সক্রিয়তা প্রয়োজন। ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হবে। মানুষের প্রতি সহমর্মিতা থাকতে হবে। পরিবর্তন আনতে হলে ঝুঁকি নিতে হয়, কিছু ত্যাগ করতে হয়। দেশটা নিজের, সে দাবি করতে হবে।

 

আহমেদ ফজলুর রহমান মুরাদ
সাবেক ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।