[gtranslate]

সামুদ্রিক মাছ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী


প্রকাশের সময় : মার্চ ২৯, ২০২৬, ৮:০৫ অপরাহ্ন / ৫০
সামুদ্রিক মাছ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী

লিনা আকতার-

বাংলাদেশে পাওয়া যায় এমন সামুদ্রিক মাছ: সামুদ্রিক মাছ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। এতে থাকে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, আয়োডিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। নিয়মিত সামুদ্রিক মাছ খেলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, এবং মস্তিষ্কের নানা সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে। শিশুদের বৃদ্ধি ও দৃষ্টিশক্তি উন্নয়নেও এই মাছের ভূমিকা অপরিসীম সাধারণত আমরা সামুদ্রিক মাছ বলতে স্যামন, সার্ডিন, টুনা, ম্যাকারেল মাছ এসব শুনে থাকি। কিন্তু আমাদের দেশেও অনেক মাছ আছে যা সামুদ্রিক মাছের মতোই সমান পুষ্টি পেতে পারি। আমাদের দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিস্তৃত বঙ্গোপসাগর আমাদের সামুদ্রিক সম্পদের মূল উৎস। এখানে প্রচুর পরিমাণে সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায় যা দেশের অর্থনীতি, পুষ্টি এবং রপ্তানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে যেমন-কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী, বরগুনা অঞ্চলে এসব বেশি পাওয়া যায়। নিচে আমরা বাংলাদেশের উপকূলে সাধারণত পাওয়া যায় এমন কিছু জনপ্রিয় সামুদ্রিক মাছ ও তাদের বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। বাংলাদেশে পাওয়া যায় এমন জনপ্রিয় সামুদ্রিক মাছ:
১. রূপচাঁদা-রূপচাঁদা বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় সামুদ্রিক মাছ। এর রঙ সাদা-রূপালি এবং মাংস কোমল ও সু-স্বাদু। সাধারণত এটি বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় অঞ্চলে ধরা পড়ে। পুষ্টিগুণের দিক থেকে এটি প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ।
২. কোরাল মাছ-কোরাল মাছের রঙ লালচে ও দেহ মজবুত। এটি হোটেল ও রেস্টুরেন্টে জনপ্রিয় সামুদ্রিক মাছ হিসেবে পরিচিত। স্বাদে চমৎকার ও প্রোটিনসমৃদ্ধ এই মাছ রপ্তানির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৩. লইট্টা-লইট্টা মাছ বাংলাদেশে শুষ্ক ও কাঁচা-দুই অবস্থাতেই বিক্রি হয়। শুকনা লইট্টা দেশি বাজারে “শুঁটকি” নামে বহুল পরিচিত। এটি কম ক্যালরিযুক্ত কিন্তু প্রোটিন সমৃদ্ধ একটি সামুদ্রিক মাছ।
৪. চিংড়ি-চিংড়ি বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি সামুদ্রিক প্রাণী। কক্সবাজার, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং বাগেরহাট অঞ্চলে এর চাষ ও আহরণ হয়। সামুদ্রিক টাইগার চিংড়ি বিশেষ ভাবে মূল্যবান। এতে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, আয়রণ ও জিঙ্ক থাকে।
৫. পারা মাছ-পারা মাছ লালচে রঙের একটি জনপ্রিয় সামুদ্রিক মাছ। এটি সাধারণত গভীর সাগরের মাছ, তবে মাঝে মাঝে উপকূলের কাছেও পাওয়া যায়। রেস্টুরেন্টে এটি গ্রিল বা ফ্রাই করে পরিবেশন করা হয়।
৬. ইলিশ-যদিও ইলিশ সাধারণত নদীতে ডিম পাড়ে, এটি মূলত সামুদ্রিক উৎসের মাছ। ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ এবং উপকূলের মিঠা ও নোনা পানির সংযোগস্থলে প্রচুর পাওয়া যায়।
৭. বাটা ও তেলাপিয়া-অনেকে জানেন না যে তেলাপিয়া ও বাটার কিছু প্রজাতিও সামুদ্রিক পানিতে টিকে থাকতে পারে। এ সব মাছ এখন বাণিজ্যিক চাষে জনপ্রিয় হচ্ছে।
৮. রে মাছ-রে মাছ বা পাতার মতো আকৃতির এই মাছ সমুদ্রের তলদেশে বসবাস করে। এটি বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলায় মাঝে মাঝে ধরা পড়ে এবং স্থানীয়ভাবে খাওয়া হয়।
৯. পাঙ্গাস-বাংলাদেশের পাওয়া সামুদ্রিক পাঙাস অত্যন্ত সু-স্বাদু, স্বাস্থ্যকর এবং প্রোটিন-সমৃদ্ধ একটি মাছ। এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ডি, বি-১২ এবং সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ, যা হার্ট ও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। জে/এ

লিনা আকতার,
রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল এন্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর।