সালিশিদের রায় না মানায় সিলেটের একটি পরিবারের সদস্যদের আট মাস ধরে একঘরে করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৬, ২০২৩, ১:৪৮ পূর্বাহ্ন / ৪৮৮
সালিশিদের রায় না মানায় সিলেটের একটি পরিবারের সদস্যদের আট মাস ধরে একঘরে করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মোঃ আখতার হোসেন খান বিশেষ প্রতিনিধি::
সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়ন এর ৬নং ওয়ার্ডের ঘড়ুয়া গ্রামে প্রভাবশালী সালিশিদের রোষানলে পড়ে পঞ্চম শ্রেণির স্কুলছাত্রসহ একই পরিবারের চার সদস্য এখন মানবেতার জীবনযাপন করছেন।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী উপজেলার শেওলা ইউনিয়ন এর ৬নং ওয়ার্ড ঘড়ুয়া গ্রামের মৃত্যু শওকত আলীর ছেলে সাহেল আহমদ।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও একঘরে হওয়া পরিবারের লোকজন জানান,আমার বাড়ির পাশে একটি প্রাইভেট স্কুল আল মদিনা আইডিয়াল একাডেমি ঐখানে আমার ছেলেকে ভর্তি করা হয়েছে, এলাকাবাসীর দাবী আমাদের গ্রামে ঘড়ুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ঐ বিদ্যালয়ে ছাত্র সংখ্যা কম,ঐখানে ভর্তি করার জন্য আমাকে চাপ দেন গ্রামবাসী, আমি গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কথা না শোনার কারণে আমাকে একঘরে করা হয়েছে।প্রায় আট মাস থেকে আমার গ্রামের কোন লোক কথা বলেন না, আমাকে গ্রামের কারো বিয়ের অনুষ্ঠানের দাওয়াত দেওয়া হয়নি, আমাকে কারো মৃত্যু হলে শিন্নি দেওয়া হয়নি,এমনকি গ্রামের সব ঘরে আমার যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং মক্তবে আমার বাচ্চাদেরকে দিলে ডিস্টার্ব দেওয়া হয় আমি বর্তমানে মানবেতার জীবন যাপন করছি।

সাহেল আহমদ এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তি করে ফেলেছি মাত্র একটি বৎসর পর আমি আমার বাচ্চাকে ফিরে নিয়ে আসব এ নিয়ে সালিশিদের কাছে গিয়ে কাকুতিমিনতি করে বলেছি- আমার ছেলে যেহেতু স্কুলে ক্লাস ফাইভে লেখাপড়া করে,একটি বছর পর আমি নিয়ে আসবো আমি বাবা হিসেবে ক্ষমা প্রার্থনা অনুরুধ করলেও সালিশিদের তাতে মন গলেনি।

সাহেল আহমদের স্ত্রী জানান, গ্রাম্যসালিশে আমাদেরকে গত আট মাস ধরে পরিবারটিকে একঘরে করে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রভাবশালী সালিশিদের ইশারায় গ্রামের অন্য কোনো পরিবার আমাদের পরিবারের কোনো সদস্যের সঙ্গে মেশে না, যাতায়াতও করছে না। এমনকি গ্রামের মাঠে ও মসজীদে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

সাহেল আহমদের স্ত্রীর প্রশ্ন আমার ছেলে প্রাইভেট স্কুলে ভর্তি করেছি ভালো লেখাপড়ার জন্য এটা কি আমাদের অপরাধ।অন্যদিকে গড়ুয়া গ্রামের প্রবীণ মুরব্বি, তাবলীগ জামাতের দায়ী ব্যক্তিত্ব ও ফুটবল খেলার সাবেক কোচ মোঃ আফতাবুর রহমান আফতাব বলেন, আল মদিনা আইডিয়াল একাডেমি বাংলাদেশ জামাতে ইসলামি অধ্যাসিত ব্যক্তি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, ঐখানে জামাতের বই পড়ানো হয়,ও তালিম দেওয়া হয়,ঐ একাডেমি থেকে আমাদের সকল বাচ্চাদেরকে নিয়ে এসেছি শুধু সাহেল আহমদ আমাদের কথা শুনেনি তাই তাকে গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাকে একঘরে করা হয়েছে।

গ্রামবাসী জানান,সালিশি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন অএ গ্রামের সকল স্তরের মানুষ।৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ ফখরুল ইসলাম বলেন আমি অনেক আগেথেকে শুনেছি কিন্তুু আমার ওয়ার্ডের সাহেল আহমদ আমার কাছে কোন অভিযোগ নিয়ে আসেনি, আমার কাছে আসলে আমি আমাদের ইউপি চেয়ারম্যান সাহেবকে অবগত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিতাম।

ইউপি সদস্য বলেন একঘরে করে রাখার বিষয়টি অমানবিক ও বেআইনি কাজ।

এ বিষয়ে সাহেল আহমদ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।