[gtranslate]

ভারতের এক মন্দিরে ৪০ বছর যাবত রান্না হয় ইফতারি


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ন / ৫২
ভারতের এক  মন্দিরে  ৪০ বছর যাবত  রান্না হয় ইফতারি

অনলাইন  ডেক্স:

চেন্নাইয়ের মাইলাপুর এলাকায় অবস্থিত শ্রী সুফিদার টেম্পল শুধু একটি হিন্দু মন্দির নয়, এটি ভারতের বহু পুরনো সহাবস্থানের এক নীরব প্রতীক। প্রায় চল্লিশ বছর ধরে এই মন্দিরে রমজান মাস এলেই এক বিশেষ প্রস্তুতি শুরু হয়। এই উদ্যোগের সূচনা করেছিলেন দাদা রতনচাঁদ, যিনি দেশভাগের সময় সিন্ধ থেকে সবকিছু হারিয়ে ভারতে এসেছিলেন। নতুন দেশে এসে তিনি বুঝেছিলেন, মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার ধর্ম নয়, তার মানবতা। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, রমজানের সময় রোজাদারদের জন্য তাঁর মন্দিরেই ইফতারের খাবার তৈরি হবে। সেই ছোট্ট উদ্যোগই আজ হাজার মানুষের আশ্রয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রমজান মাসে প্রতিদিন সকাল সাড়ে সাতটা বাজতেই মন্দিরের রান্নাঘর জীবন্ত হয়ে ওঠে। বড় বড় হাঁড়িতে চাল ধোয়া হয়, সবজি কাটা হয়, মশলার গন্ধে ভরে ওঠে চারপাশ। এখানে কাজ করেন বিভিন্ন ধর্মের মানুষ—কেউ হিন্দু, কেউ মুসলিম, কেউ শিখ—কিন্তু সেই মুহূর্তে তাদের পরিচয় একটাই, তারা সবাই মানুষ, সবাই স্বেচ্ছাসেবী। নিরামিষ ভেজ বিরিয়ানি, ফ্রাইড রাইস, সবজির আচার, ফল এবং জাফরান মেশানো দুধ তৈরি করা হয় প্রতিদিন প্রায় ১,২০০ জনের জন্য। বিকেলের দিকে এই খাবার যত্ন করে পাঠানো হয় পাশের ওয়ালাজাহ মসজিদে, যেখানে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে রোজাদাররা ইফতার করেন।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্যটি দেখা যায় খাবার বিতরণের সময়। মন্দিরের অনেক স্বেচ্ছাসেবী তখন মুসলিম টুপি পরে খাবার পরিবেশন করেন। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক নিয়ম নয়, এটি এক নিঃশব্দ সম্মান—অন্যের বিশ্বাসকে হৃদয় দিয়ে গ্রহণ করার এক আন্তরিক প্রকাশ। আর্কট রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স নবাব আবদুল আলি এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেছিলেন, ভারতের প্রকৃত শক্তি এখানেই—যেখানে মানুষ নিজের ধর্ম পালন করার পাশাপাশি অন্যের ধর্মকেও সমান শ্রদ্ধা দেয়। দাদা রতনচাঁদ আজ আর নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া এই ঐতিহ্য এখনও বেঁচে আছে, প্রতিদিনের রান্নার ধোঁয়ার সঙ্গে, মানুষের হাসির সঙ্গে, আর সেই এক চিরন্তন বিশ্বাস নিয়ে—মানবতার কোনো ধর্ম হয় না।

সংকলনে: সৈকত বিশ্বাস