গুইমারাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মানবিক সহায়তা প্রদান


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৮, ২০২২, ৫:১৭ অপরাহ্ন / ৭০৮
গুইমারাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মানবিক সহায়তা প্রদান

 

এম. জুলফিকার আলী ভূট্টো, বিশেষ প্রতিনিধি-

খাগড়াছড়ি জেলায় স্থিতিশীল শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের আওতাধীন গুইমারা রিজিয়ন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনার পাশাপাশি, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসমূহের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়মিত ভাবে বিভিন্ন ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচী পালন করে আসছে।
৮ নভেম্বর-২০২২ খ্রি. মঙ্গলবার সকাল থেকেই গুইমারা সরকারি কলেজ মাঠে গুইমারা রিজিয়ন ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে স্থানীয় জনসাধারনের মাঝে ৩ শত জন রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান, ৩ শতটি পরিবারকে ১০ টাকার সুপারশপ হতে ব্যাগ ভর্তি বাজার (এক টাকায় চাল, দুই টাকায় ডাল এভাবে ১০ টাকার পণ্য ক্রয় করা যাবে যার বাজার মূল্য ৫শ থেকে ৬ শত টাকা এবং ৫০ টি পরিবারকে সম্প্রীতি বিপনীর মাধ্যমে সর্বমোট ৬ শত ৫০ টি পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা প্রদান করে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়ন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে খাগড়াছড়ির গুইমারাতে যাত্রা শুরু করলো সম্প্রীতি বিপণী। পাহাড়ে আনাচে কানাচে যুগযুগ ধরে বসবাসকারী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য। সম্প্রীতি বিপণীতে দেখা মিলবে এ সকল কুটির শিল্পের। চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে গুইমারা চেকপোস্ট থেকে একটু আগালেই দেখা মিলবে অপরূপ কারুকার্যে সজ্জিত এই সম্প্রীতি বিপনীর।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইউরোপ আমেরিকায় বেড়াতে গিয়ে ডলার দিয়ে স্যুভেনির কিনে বসার ঘর সাজাই আমরা। আর দেশের জিনিস দেখলে সস্তা বাঁশ, সুতা বলে শ্রমের দামটাই দিতে চাই না। বিদ্যানন্দ তাই সারা দেশে ঘুরে কুঠির শিল্পগুলো বাঁচাতে চাচ্ছে, সংগ্রহ করে আনছে মানুষের কাছে। মানুষ যে দাম দিবে, সেটাই পৌঁছে যাবে শিল্পীর কাছে।
সম্প্রীতি বিপণীর দুইটি অংশ। সুবিধা বঞ্চিতদের জন্য দাতব্য অংশ এবং সচ্ছল টুরিস্টদের জন্য বাণিজ্যিক অংশ। তবে বাণিজ্যিক অংশ খুব ছোট পরিসরে হবে। সেনাবাহিনী, সিভিল প্রশাসন কিংবা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীর গাইডেন্সে বিভিন্ন অঞ্চলে দুঃস্থ জনসাধারণের মাঝে টোকেন দেয়া হবে। নির্ধারিত সে টোকেনে নির্দিষ্ট দিনে এসে রেশন পণ্য নিয়ে যেতে পারবে নাম মাত্র (এক, দুই টাকা) মূল্যে। মাসিক রেশনের নির্দিষ্ট টোকেন থাকবে যা শুধু মাত্র নিঃসন্তান বিধবা, অসহায় বৃদ্ধ (যাঁদের সন্তান দেখে না)। তাঁরা নির্দিষ্ট তারিখে এসে রেশন নিয়ে যাবেন। এ সেবাটি মূলত দূর্গম এলাকার মানুষের জন্য। এক্ষেত্রে সম্প্রীতি বিপণী তাঁদের পরিবহন খরচও বহন করবে।
বাণিজ্যিক অংশের কুটির শিল্পের পণ্য গুইমারার সম্প্রীতি বিপনীর পাশাপাশি পাওয়া যাবে ভ্রাম্যমাণ গাড়ি থেকে। এই গাড়িটি পণ্য নিয়ে ছুটির দিনে থাকবে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন পর্যটন স্পটে। বিক্রয়কৃত পণ্যের অংশ থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ চ্যারিটি অংশে খরচ করা হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তৈরীকৃত কুটির শিল্প পণ্যের পাশাপাশি থাকবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসহায় নারী যেমন পাহাড় ও রোহিঙ্গা শরণার্থী নারীদের কর্তৃক তৈরীকৃত পন্য। এ ছাড়া গুইমারা রিজিয়ন ও বিদ্যানন্দের বিভিন্ন প্রজেক্টের উৎপাদিত পণ্য থাকবে সম্প্রীতি বিপণীতে।
এ সময় বক্তব্য রাখেন, খাগড়াছড়ি জেলার সংসদ সদস্য ও ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী বিষয়ক ট্রান্সফোর্সের চেয়ারম্যান, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামাল মামুন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তিন পার্বত্য জেলার সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি, বাসন্তি চাকমা এবং সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, কংজরী চৌধুরী, গুইমারা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, মেমং মারমা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মোতাছেম বিল্যাহ, গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ, মুহাম্মদ আ. রশীদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সহ ইলেকট্রনিক্স প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
গুইমারা রিজিয়নে নিয়োজিত সেনা, বিজিবি, আনসার, পুলিশসহ সকল নিরাপত্তা বাহিনী শান্তি সম্প্রীতি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে নিরননলস প্রচেষ্টায় করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানান গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামাল মামুন।