পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা অর্থনৈতিক নয় রাজনৈতিক – উষাতন তালুকদার


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২, ২০২২, ৯:৩৯ অপরাহ্ন / ৪০৪
পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা অর্থনৈতিক নয় রাজনৈতিক – উষাতন তালুকদার

 

 

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি।

আলোচনায় বসে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি সরকারকে বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক।

শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাঙ্গামাটির কুমার সুমিত রায় জিমনেসিয়াম মাঠে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৫ বছর উপলক্ষে জেএসএসের জেলা কমিটি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন তিনি।

সাবেক এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘‌পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা অর্থনৈতিক নয়, এটি রাজনৈতিক সমস্যা।৷ এ সমস্যাকে রাজনৈতিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সমাধান করতে হবে। কেন জানি দেখা যাচ্ছে, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধানে পথ খোঁজা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘‌সরকার যাদের সঙ্গে চুক্তি করেছে তাদের সঙ্গে বসতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে।’

ঊষাতন আরো বলেন, ‘আজকে পাহাড়ে অস্ত্রের কথা বলা হচ্ছে, আমরা ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর প্রতিটি অস্ত্র ও গুলি জমা দেয়ার পর ইউপিডিএফের কর্মীরা পার্বত্য অঞ্চলের বাইরে থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে চুক্তির পরে লোকজনের ওপর হামলা চালায়। তখন চুক্তির পর মানুষকে আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র হাতে নিতে হয়। তার মানে এই নয় জনসংহতি সমিতির সদস্যদের কাছে অবৈধ অস্ত্র রয়েছে।’

সমাবেশ থেকে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিরোধী ও জুম্মস্বার্থ পরিপন্থী সকল কার্যক্রম প্রতিরোধ ও চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সবাইকে আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহ্বান জানান।

সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেছেন, পাহাড়ে ভূমি, আইনশৃঙ্খলা, সাধারণ প্রশাসন এবং আভ্যন্তরীণ ও প্রত্যাগত উদ্বাস্তু শরণার্থী পুনর্বাসন হয়নি। সরকারের একটি অংশ চুক্তির বিরোধিতা করছে। চুক্তি বাস্তবায়নে যত দেরি হবে, দলবাজি ও চাঁদাবাজি তত বাড়বে।

নতুন নতুন দলও গজিয়ে উঠবে। চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আমাদের আরো ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আন্দোলন সংগ্রাম ছাড়া চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তাই জুম্ম জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে সমাবেশ থেকে।

এদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে জনসংহতি সমিতি ছাড়াও নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও সেনাবাহিনী রাঙ্গামাটি রিজিয়ন এবং উপজেলা পর্যায়েও পালন করা হয়েছে বলে জানা যায়।