ফেনীতে ১০ হাজারেরও বেশি টোকেন বানিজ্যের আওতায় সড়কে রেজিস্ট্রেশন বিহীন সিএনজি অটোরিক্সা ভেঙ্গে ফেলার সিদ্ধান্ত ।


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২০, ২০২২, ৭:৪৯ অপরাহ্ন / ৩৯৭
ফেনীতে ১০ হাজারেরও বেশি টোকেন বানিজ্যের আওতায় সড়কে রেজিস্ট্রেশন বিহীন সিএনজি অটোরিক্সা ভেঙ্গে ফেলার সিদ্ধান্ত ।

 

ইউসুফ মুন্সী,স্টাফ রিপোর্টারঃ
ফেনীতে সরকারি দল ও পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে কতিপয় দুস্কৃতিকারীর টোকেন বানিজ্যের আওতায় সকল রেজিস্ট্রেশন বিহীন ও ডেট ফেল সিএনজি আটক এবং ড্যাম্পিং এ ভেঙ্গে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী উদ্যোগে ফেনীর সড়ক-মহাসড়কে পরিবহণ চাঁদাবাজী ও যানজট নিরসনে মত বিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে ফেনীর জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বিনয় কুমার পাল, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এর উপ পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের পরির্দশক মোহাম্মদ আনোয়ারুল আজিম,মহাসড়ক পুলিশ কর্মকর্তা , বিভিন্ন পরিবহণ সংগঠনের নেতা, সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

ফেনী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উক্ত মতবিনিময় সভায় আলোচনায় উঠে আসে ফেনীতে রেজিস্ট্রেশনকৃত সিএনজি অটোরিক্সার সংখ্যা ৯ হাজার ২ শ। আর রেজিস্ট্রেশন বিহীন সিএনজি অটোরিক্সার সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশী। এসব রেজিস্ট্রেশন বিহীন ও ডেট ফেল সিএনজি অটোরিক্সা কতিপয় দুস্কৃতিকারী ও চাঁদাবাজ এবং অসাধু পুলিশের কাছ থেকে মাসিক ৫শ টাকা হারে বিভিন্ন স্টিকার, কার্ড নিয়ে শহর দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। ব্যবসায়ী সমিতির নামে চাঁদা নিয়ে কিছু অসাধু ব্যাক্তি শহরে রাস্তায় যত্রতত্র হকার ও রিক্সা ভ্যানে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বসিয়েছে। পৌরসভার ইজারাদারের রিসিট দিয়ে অলিগলি লাঠি বাহিনী চাঁদা তুলছে। ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর মহিপাল এলাকায় উড়াল সেতুর নিচে বিশৃঙ্খলভাবে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী উঠানামা ও প্রকাশ্যে চাঁদা তোলা হচ্ছে। বিআরটিসির বাস তার নির্দিষ্ট স্থানে না দাঁড়িয়ে যত্রতত্র দাঁড়িয়ে মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি করছে।

এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে দীর্ঘ আলোচনা শেষে সর্ব সম্মতভাবে সিদ্ধান্ত হয়- সড়ক মহাসড়কে চাঁদাবাজী, টোকেন বানিজ্য বন্ধে ও ফুটপাত দখল মুক্ত করতে আগামি রোববার পর্যন্ত সময়সীমা দিয়ে মাইকিং করা, পরদিন সোমবার হতে ষাঁড়াশী অভিযান চালানো, ফেনী পৌরসভার ইজারাকৃত বাস ও সিএনজি স্ট্যান্ড দাউদুপুর, হাসপাতাল মোড়, মদিনা বাস স্ট্যান্ড সংশ্লিষ্ট এলাকা ছাড়া সড়কে পরিবহণ চাঁদাবাজ পেলে গ্রেফতার করা, মহাসড়কের মহিপাল এলাকায় রাস্তার উপর বিআরটিসিসহ যে সকল বাস যাত্রী উঠানামা করবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া ও মহিপালে টিকেটের টং ঘর উচ্ছেদ করা হবে। রেজিস্ট্রেশন বিহীন কোন সিএনজি অটোরিক্সা শহরে চলাচল করতে দেয়া হবে না।

পৌরসভা মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী বলেন,পরিবহণ চাঁদাবাজী ও টোকেন বানিজ্যের সাথে পৌরসভা বা তার দলের কেউ জড়িত নয়। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেয়ার দাবী তার। তিনি বলেন মহিপাল বাস টার্মিনাল সংস্কার ও অস্থায়ীভাবে বাস কাউন্টার করে দেয়া হবে।

ফেনীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকির হোসেন পরিবহণ চাঁদাবাজী ও টোকেন বানিজ্যের সাথে পুলিশের কোন সম্পৃক্ততা নেই দাবী করে বলেন, সভায় উপস্থিত সকলে শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থাকলে ফেনীকে পরিবহণ চাঁদাবাজী ও যানজট নিয়ন্ত্রণ নয় বন্ধ করাই সম্ভব। পুলিশ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করবে।

ফেনীর জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ উল হাসান বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে আলোচনা করে চাহিদা অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন বিহীন সিএনজি অটোরিক্সা রেজিস্ট্রেশনের আওতায় নেয়ার উদ্যোগ নিবেন।