লালমনিরহাটে বিসিআইসি সার ডিলার সংকটে


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৪, ২০২২, ১:৪১ অপরাহ্ন / ৪৫১
লালমনিরহাটে বিসিআইসি সার ডিলার সংকটে

লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটে কৃষি কার্ডধারী ২লক্ষ ৩৪হাজার ৯৮জন কৃষক। সার বিতরণে রয়েছে মাত্র বিসিআইসি ৫২ডিলার। এতো কৃষকের সার বিতরণে হিমশিম ডিলাররা। যুগের পর যুগ ধরে ৫২বিসিআইসি ডিলার সিন্ডিকেটে বন্দী সার। ডিলার সংকটের কারণে পাচ্ছে না সরকারী ভূর্তকির সার কৃষক। লাইসেন্স ভাড়ায় ব্যবসা করছে অনেক ডিলার। অনেকে ডিও করছে বিক্রি। লালমনিরহাটের ৪৫টি ইউনিয়নে সরকারের ভূর্তকির সার পৌছাতে ৫২বিসিআইসি ডিলার নিয়োগ করে শিল্প মন্ত্রণালয়। ডিলাররা ইউনিয়নে সার না পৌছে মজুদ রাখছে শহরে। গ্রামাঞ্চলে কৃষকের সংকটে পড়ছে সার।

জানা গেছে, বিসিআইসি ডিলাররা অনেকেই থাকেন ঢাকায়। জেলায় নেই তার বসত ভিটে। নেই সার গোডাউন। সার উত্তোলনেও করেন না তিনি। কৃষকও কখনও দেখেননি ডিলারকে। ডিলার প্রতিনিধি দিয়েই চালাচ্ছে লাইসেন্স। প্রতিনিধিই সরকারী সারের মালিক। প্রতিমাসে সার পৌছে না ইউনিয়নে। যাচ্ছে শহরের প্রভাবশালী ডিলারের গোডাউনে। ঢাকায় বসেই প্রতিমাসের ভাগের টাকা পাচ্ছেন ডিলার। এটি বিসিআইসি ডিলার কেয়া ট্রেডাসের পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ডিলার শাহনাজ পারভীনের সার বিতরণের ইউপি লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছের চিত্র। খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের কৃষক সারের অভাবে পাচ্ছে না করতে কৃষি কাজ। ডিলার শাহানাজ পরভীনের বিরুদ্ধে রয়েছে সার বিতরণে অনিয়ম। তার প্রতি ক্ষুদ্ধ খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের কৃষকরাও। শুধু খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন না কমলাবাড়ী, দলগ্রাম, দূর্গাপুর, ভেলাবাড়ীসহ লালমনিরহাটের ৪৫টি ইউনিয়নের একই চিত্র। বিসিআইসি ডিলাদের সার বিতরণে লেজে গোবরে। সার বিতরণে অনিয়মে জড়িত কৃষি কর্মকতারাও। সরকারের পর্যাপ্ত সার থাকলেও কৃষি কর্মকতাদের ম্যানেজ করেই চালাচ্ছে সার সিন্ডিকেট।

অভিযোগ রয়েছে, ৫২টি ডিলার ৪৫টি ইউনিয়ন আবার ২টি পৌরসভায় সার বিতরণে খাচ্ছে হিমশিম। ইউনিয়ন গুলোতে কৃষকের ও কৃষি ক্ষেত বৃদ্ধি পাওয়ায় আরও বিসিআইসি ডিলার বৃদ্ধিও দাবী কৃষকের। বিসিআইসি ডিলাররা প্রতি মাসের বরাদ্দের অর্ধেক সার বাফার থেকে তুলে বাকী অর্ধেক সার গোডাউনেই চলে ক্রয়-বিক্রয়। কম ডিলার থাকায় সার না পেয়ে কৃষকের ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন। কৃষক-কৃষি বেড়ে যাওয়ায় সার বিতরণে আরও ডিলার নিয়োগে প্রয়োজন বলে দাবী করেন কৃষক নেতা এ্যাডঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম। প্রতিটি ইউনিয়নে ডিলারের নিজস্ব ৫০মেট্টিক টন ধারন ক্ষমতা গোডাউন থাকার কথা থাকলেও নেই ডিলারের।

অভিযোগ রয়েছে, লালমনিরহাট জেলায় ৫২জন বিসিআইসি ডিলার থাকলেও তাও পরিবারতান্ত্রিক। আদিতমারী উপজেলায় ১০জন বিসিআইসি ডিলার থাকলেও একই পরিবারের পিতা-মাতা-ভাই রয়েছে ৬জন ডিলার। একই পরিবারের ওই ৬জন ডিলার নিয়ন্ত্রণ করে ওই উপজেলার সরকারী সার। ডিলাররা বেশি ভাগ ক্ষমতার দাপটে শহরে গোডাউনে মজুত রাখায় গ্রামে সার সংকটে পড়ছে কৃষক। অনেক ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানেন না তার ইউনিয়নে বিসিআইসিকে ডিলার।

খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ.এস.এম খায়রুজ্জামান মন্ডল সাংবাদিকদের জানান, তার ইউনিয়নে কে বিসিআইসি সার ডিলার তা আমি জানিনা। কারণ ডিলাররা কখনো সার উত্তোলন করে ইউনিয়নে আনে না। শহর থেকে কৃষককে অতিরিক্ত খরচে নিয়ে আসতে হয় সার। অভিযোগ উঠেছে ডিলাররা কৃষি কর্মকতা ম্যানেজ করে চালাচ্ছে সার সিন্ডিকেট।

লালমনিরহাট জেলা বিসিআইসি ডিলার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন দুলু সাংবাদিকদের জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়নে সার বিতরণে ব্যর্থ হলে সমিতির সিদ্ধান্ত মতে নেওয়া হবে ব্যবস্থা।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ আবু জাফর সাংবাদিকদের জানান, ডিলাররা সার বিতরণে কোন প্রকার গাফিলতি করলে লাইসেন্স বাতিলসহ নেওয়া হবে ব্যবস্থা।
এ/ মনি ২১