লালমনিরহাটে মুক্তিযোদ্ধার মেয়েকে মারধরের অভিযোগ


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২১, ২০২২, ১০:৫০ অপরাহ্ন / ৪৪৯
লালমনিরহাটে মুক্তিযোদ্ধার মেয়েকে মারধরের অভিযোগ
মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে প্রতিবেশীর মারধরের শিকার হয়েছেন মমতাজ বেগম নামে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা’র মেয়ে। এ ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ শাহা আলম। এর আগে গত সোমবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯ টার দিকে হাতীবান্ধা উপজেলার পূর্ব সিন্দুর্না এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা’র কন্যা মমতাজ বেগম স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।

এ ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে প্রতিবেশী বাবুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে আরও ৪জনের নাম উল্লেখ করে হাতীবান্ধা থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন- বাবুল ইসলামের ছোট ভাই মৃদুল ইসলাম ও তার স্ত্রী নাজমা বেগম এবং প্রতিবেশী ছাদেক আলীর স্ত্রী নাদিরা বেগম ও মোহনা।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবার থেকে জানা যায়, নিজস্ব জমি না থাকায় দীর্ঘদিন স্থানীয় রেললাইনের পাশে মানবেতর জীবনযাপন করেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক। বিষয়টি উপজেলা ইউএনওসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার নজরে আসে। পরে তারা হাতীবান্ধা উপজেলার পূর্ব সিন্দুর্না এলাকার বাংলাদেশ সরকারের খাস খতিয়ান ভুক্ত ১৫ শতাংশ জমি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হকের হতে যাবাতীয় কাগজপত্রসহ তুলে দেন। এরপর থেকেই দীর্ঘদিন থেকে সেখানে একটি ছোট টিনের ঝুপড়ি ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছেন তিনি৷

এদিকে বাংলাদেশ সরকার থেকে ‘বীর নিবাস’ প্রকল্পের আওতায় ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা জন্য ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। সেখানে প্রায় ১ বছর আগে ‘বীর নিবাস’ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ঘরের কাজ শুরুর পর থেকে প্রতিবেশী বাবুলসহ তার লোকজন ওই জমি নিজের দাবি করে আসছেন। কয়েকদিন আগে লালমনিরহাট থেকে ওই বীর মুক্তিযোদ্ধা’র মেয়ে মমতাজ তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন।

এমতাবস্থায় গত ১৭ অক্টোবর সকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবার জমিতে সবজি আবাদের জন্য জমি খনন শুরু করেন মমতাজ বেগম। এ সময় হঠাৎই প্রতিবেশী বাবুল তার কাজে বাঁধা দেন। বাঁধা উপেক্ষা কাজ করতে থাকলে বাবুল ইসলামের হুকুমে তার দলবল ভুক্তভোগী মমতাজ বেগমের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করে তারা। শুধু তা-ই নয়, মমতাজ বেগমের শরীরের পরনের পোশাক বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানি করে অভিযুক্তরা। এ সময় মমতাজ বেগম অমানবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে চিৎকার করলে তার বোন জোসন্না বেগম এগিয়ে এলে তাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে গুরুতর আহত মমতাজ বেগমকে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

অভিযোগ উঠেছে, এ সময় অপর দুই অভিযুক্ত মোহনা ও মৃদুল বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হককে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। বাড়ির সামনে থাকা একটি “বীর মুক্তিযোদ্ধা’র বাস ভবন” নামের সাইন বোর্ডটি ভেঙ্গে ফেলেন তারা। এ ছাড়া তারা বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে বিভিন্ন রকম হুমকি দিয়েছে বলে ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয় নির্যাতনের শিকার মমতাজ বেগম হাসপাতালের বেডে শুয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার বাবা অসুস্থ তাই আমি বাবাকে দেখতে বাড়িতে আসছি৷ বাড়ির পাশে জমি পড়ে থাকায় শাক-সবজি রোপনের জন্য খনন করছিলাম৷ এ সময় হঠাৎ প্রতিবেশী বাবুলসহ আরও কয়েকজন আমার ওপর চড়াও হয়৷ তারা আমাকে বেধড়ক মারধর করেছে। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই। এ বিষয়ে জানার জন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হাতীবান্ধা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডারের আহবায়ক রোকনুজ্জামান সোহেল বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক ভুমিহীন হওয়ার সরকারের খাস খতিয়ান ভুক্ত ১৫ শতাংশ জমি তার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সেখানে তিনি বসবাস করে আসছেন। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সরকারের সারাদেশে মতো বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হকের নামেও “বীর নিবাস” বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু প্রতিবেশী কয়েকজন বরাবরই তাদের ওপর বিভিন্ন সময় হামলা করে আসছে, তারই রেশ ধরে আবারও ১৭ অক্টোবর মুক্তিযোদ্ধা’র কন্যার ওপর হামলা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ শাহা আলম বলেন, এ ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।