

সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ-
ডিমের খোসা একটি সহজলভ্য ও প্রাকৃতিক জৈব উপাদান, যা সঠিক ভাবে প্রক্রিয়াজাত করে কৃষিতে ব্যবহার করলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং ফসলের গুণগত মান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এতে প্রধানত ক্যালসিয়াম কার্বোনেট বিদ্যমান, যা উদ্ভিদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান।
উপকারিতা:
১. ক্যালসিয়াম সরবরাহ ও উদ্ভিদ শক্তিশালীকরণ
উদ্ভিদের কোষপ্রাচীর মজবুত করে, ফলে গাছ সবল হয় এবং ফল ফেটে যাওয়া (Blossom End Rot) কমে।
২. মাটির গুণাগুণ উন্নয়ন
অম্লীয় মাটির pH সামঞ্জস্য রাখতে সহায়তা করে, যা অধিকাংশ ফসলের জন্য উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করে।
৩. শিকড়ের বৃদ্ধি ও পুষ্টি গ্রহণ বৃদ্ধি
শিকড় সুগঠিত হয়, ফলে গাছ সহজে পানি ও পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করতে পারে।
৪. ফলন ও গুণগত মান বৃদ্ধি
সবজি ও ফল ফসলে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ফলের গুণগত মান উন্নত করে।
৫. প্রাকৃতিক পোকা দমন সহায়ক
মাটির উপর প্রয়োগে শামুক ও নরমদেহী পোকামাকড়ের আক্রমণ কিছুটা কমাতে সহায়তা করে।
৬. পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী
গৃহস্থালির বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি হওয়ায় এটি কম খরচে সহজে প্রস্তুত যোগ্য।
ব্যবহার পদ্ধতি:
১. প্রস্তুত প্রণালী
ডিমের খোসা পরিষ্কার করে রোদে সম্পূর্ণ শুকাতে হবে
শুকানো খোসা গুঁড়া করে সংরক্ষণ করতে হবে
২. জমিতে প্রয়োগ
জমি প্রস্তুতের সময় প্রতি শতাংশে ২০০–৩০০ গ্রাম হারে মাটির সাথে মিশিয়ে প্রয়োগ করা যেতে পারে
৩. গাছের গোড়ায় প্রয়োগ
প্রতিটি গাছের গোড়ায় ১–২ চা চামচ হারে প্রয়োগ
মাসে ১ বার ব্যবহার উপযোগী
৪. টব ও ছাদ কৃষিতে
প্রতি টবে ১–২ টেবিল চামচ গুঁড়া মিশিয়ে প্রয়োগ
১৫–২০ দিন অন্তর ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়
৫. কম্পোস্টের সাথে ব্যবহার
গোবর বা ভার্মি কম্পোস্টের সাথে মিশিয়ে প্রয়োগ করলে কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়
সতর্কতা-খোসা সম্পূর্ণ শুকানো নিশ্চিত করতে হবে
অতিরিক্ত প্রয়োগ পরিহার করতে হবে একক ভাবে না ব্যবহার করে অন্যান্য জৈব সারের সাথে সমন্বয় করা উত্তম
ডিমের খোসার জৈব সার পাউডার একটি কার্যকর, নিরাপদ ও টেকসই কৃষি উপাদান। সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে এটি মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। জে/এ
সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ,
কেন্দ্রীয় সভাপতি,বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন,
কৃষি লেখক, কথক: বাংলাদেশ বেতার।

আপনার মতামত লিখুন :