

মোঃ রবিউল ইসলাম মিনাল:
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৫ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। তবে এই সুফল পাচ্ছেন না রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সাধারণ মানুষ। সরকারি দামের তোয়াক্কা না করে স্থানীয় ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে প্রতি সিলিন্ডারে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাজারের বর্তমান চিত্র বিইআরসি’র নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম এখন ১ হাজার ৩৪১ টাকা। অথচ গোদাগাড়ী পৌর এলাকা ও উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এই গ্যাস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫৫০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকা পর্যন্ত দামে। ক্রেতাদের ক্ষোভ ও অভিযোগ গোদাগাড়ীর স্থানীয় ক্রেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, যখনই দাম বাড়ে, মুহূর্তের মধ্যেই বাজারে তা কার্যকর হয়। কিন্তু দাম কমার ঘোষণা এলেও বিক্রেতারা তা মানেন না। তাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ডিলার সিন্ডিকেট করে গ্যাস স্টক করে রেখেছেন এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছেন।
একজন ভুক্তভোগী ক্রেতা বলেন, সরকার দাম কমাল ১৫ টাকা, কিন্তু বাজারে আমাদের কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ টাকার উপরে। দাম বাড়লে সাথে সাথে বাড়ে, কিন্তু কমলে ডিলাররা বলে আগের কেনা মাল শেষ হয়নি।
কেন এই দাম সমন্বয়? বিইআরসি জানিয়েছে, এনবিআর এলপিজির ওপর উৎপাদন-পর্যায়ের ভ্যাট প্রত্যাহার এবং আমদানি পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করায় এই দাম কমানো হয়েছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি এলপিজির নির্ধারিত দাম ১১১ টাকা ৭৯ পয়সা। সরবরাহ সংকট ও বাড়তি মুনাফা
বিগত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে এলপিজির সরবরাহ-সংকটকে পুঁজি করে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী এই অরাজকতা চালাচ্ছেন। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি নিলেও স্থানীয় প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ সাধারণ গ্রাহকদের। অন্য দিকে, গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৬১ টাকা ৮৬ পয়সা এবং সরকারি সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। জে/এ

আপনার মতামত লিখুন :