

এম এফ এইচ রাজু
ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি-
পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে বাস্তবায়িত ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্পে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প কাজ সম্পন্ন না করেই অর্থ লোপাটের প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এতে উপজেলার বিভিন্ন সড়কের বেহাল দশা সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
দুদকের সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল পিরোজপুর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম অভিযুক্ত ২৭ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ৮টি মামলা দায়ের করেন। ইতোমধ্যে দুর্নীতিতে জড়িত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, ভাণ্ডারিয়ার ধাওয়া, ইকড়ি, নদমূলা, ভিটাবাড়িয়া, গৌরিপুর ও তেলিখালী ইউনিয়নের রাস্তা ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর সিংহভাগই বাস্তবায়ন হয়নি। দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তারা প্রকল্পের অর্থ আগাম উত্তোলন করে ঠিকাদারদের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীরা।
উল্লেখযোগ্য দুর্নীতিগ্রস্ত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ পুনর্বাসন প্রকল্প, ১০০ মিটারের নিচে সেতু নির্মাণ প্রকল্প, দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রিজ পুনর্বাসন প্রকল্প, গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, উপজেলা শহর (নন-মিউনিসিপ্যালিটি) উন্নয়ন প্রকল্প ও সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প (বরিশাল বিভাগ)
এসব প্রকল্পের আওতায় রাস্তার কাজ না করেই বিল উত্তোলন করা হয় বলে দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে। এ কাজে জড়িত পিরোজপুর এলজিইডির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস ছত্তার, উপসহকারী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম এবং হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক খান সহ অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন মহারাজ, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম ও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের সম্পৃক্ততার কথাও উঠে এসেছে।

চিংগুড়িয়া গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের গ্রামের রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। রাস্তার অবস্থা এত খারাপ যে পায়ে হেঁটেও চলা যায় না। অটোচালক হানিফ হাওলাদার জানান, সড়কের গর্তের কারণে গাড়ি চালানো যায় না। বর্ষায় রাস্তায় চলাচল সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়ে। স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন বলেন, রাস্তার পুরো বরাদ্দ তুলে নিয়ে ঠিকাদার গা-ঢাকা দিয়েছে। এখন আগুন লাগলে বা এম্বুলেন্স দরকার হলে যাওয়ার উপায় নেই।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইমতিয়াজ হোসাইন রাসেল বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি। যেহেতু মামলার বিষয় চলছে, তাই প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত এখনই নেয়া যাচ্ছে না। প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।
জনগণের মৌলিক অধিকার ভেঙে চুরমার করে এভাবে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ শুধু দুর্নীতির নয়, এক ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও শামিল। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে, রাস্তাগুলো সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আপনার মতামত লিখুন :