[gtranslate]

ভাণ্ডারিয়া হাসপাতালে জরুরি সভা-ডেঙ্গুর প্রকোপে চিকিৎসা সেবায় হুমকি, জনবল সংকট চরমে


প্রকাশের সময় : জুলাই ১৬, ২০২৫, ৩:১৪ অপরাহ্ন / ১৩৪১
ভাণ্ডারিয়া হাসপাতালে জরুরি সভা-ডেঙ্গুর প্রকোপে চিকিৎসা সেবায় হুমকি, জনবল সংকট চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ভাণ্ডারিয়া, পিরোজপুর৷

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার পাশাপাশি চরম জনবল সংকটে ভুগছে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এ পরিস্থিতিতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্বাস্থ্যসেবা কমিটির সভাপতি রেহেনা আক্তার।

সভায় হাসপাতালের বিভিন্ন সংকট তুলে ধরে বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বর্ণালী দেবনাথ, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কামাল হোসেন, মেডিকেল অফিসার ডা. অমিত হাসানসহ অন্যান্য চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা।

ডা. বর্ণালী জানান, প্রতিদিন গড়ে ৪-৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ডায়রিয়া, জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন কারণে প্রতিদিন শতাধিক রোগী সেবা নিতে আসছেন। অথচ চিকিৎসক ও কর্মচারীর অভাবে তারা ঠিকমতো চিকিৎসা পাচ্ছেন না।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত ২৮টি প্রথম শ্রেণির পদের মধ্যে মাত্র ১২ জন কর্মরত, দ্বিতীয় শ্রেণির ২৯টি পদের মধ্যে ২৭ জন, তৃতীয় শ্রেণির ৮১টি পদের মধ্যে ৩২টি এবং চতুর্থ শ্রেণির ২৮টি পদের মধ্যে ২২টি পদ শূন্য। এমন পরিস্থিতিতে রাতের শিফটে একজন ডাক্তার ও দুজন নার্স দিয়ে সেবা চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এছাড়া ল্যাব টেকনিশিয়ান মাত্র একজন, প্রশিক্ষিত আল্ট্রাসনোগ্রাম চালক না থাকায় সেবা ব্যাহত হচ্ছে। চারটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও মাত্র একজন চালক থাকায় রোগী পরিবহনেও বিঘ্ন ঘটছে। জ্বালানির বরাদ্দও অপ্রতুল।

স্থায়ী স্টোর রুম না থাকায় ওষুধ-সরঞ্জাম অস্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। ফলে ওষুধ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। সম্প্রতি আইসিইউ থেকে তামার পাইপসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনাও ঘটেছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ৭৪ লাখ টাকার বকেয়া রয়েছে এর মধ্যে ৫৬ লাখ পৌরকর, ১৭ লাখ বিদ্যুৎ বিল এবং ভূমি উন্নয়ন কর প্রায় ৬৬ হাজার টাকা। এতে হাসপাতালের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

সভায় কেবিন ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠে। নার্সরা প্রায়ই ভাড়া আদায়ের সময় হেনস্থার শিকার হন বলেও জানানো হয়।

সবশেষে, সভায় সিদ্ধান্ত হয় হাসপাতালের সমস্যা সমাধানে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি জরুরি প্রতিবেদন উর্ধ্বতন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।