[gtranslate]

ভূমধ্যসাগরে মৃত্যু, জগন্নাথপুর থানায় ৫ দালালের বিরুদ্ধে মামলা


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ন / ১৭৮
ভূমধ্যসাগরে মৃত্যু, জগন্নাথপুর থানায় ৫ দালালের বিরুদ্ধে মামলা

এম এ রশীদ, বিশেষ প্রতিনিধি:

লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের ৫ তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় ৫ দালালসহ একটি আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জগন্নাথপুর থানায় মানবপাচার ও প্রতারণা আইনে মামলাটি করেন নিহত আমিনুর রহমানের পিতা মো. হাবিবুর রহমান।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে,গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে উন্নত জীবনের প্রলোভনে দালালের মাধ্যমে দেশ ছাড়েন জগন্নাথপুর উপজেলার আমিনুর রহমান,ইজাজুল হক মনি, সায়েক আহমদ, মো. আলী আহমদ ও নাঈম মিয়া। জনপ্রতি ১১ থেকে ১৩ লাখ টাকা নিয়ে তাদের লিবিয়া থেকে একটি অনিরাপদ রাবার বোটে তুলে দেওয়া হয়। সাগরে ৫-৬ দিন ভাসমান থাকার পর খাবার ও পানির অভাবে তারা মারা যান। অভিযোগ রয়েছে, দালালদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

জগন্নাথপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন এবং ২০২৬ সালের অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ অধ্যাদেশ অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং আন্তর্জাতিক এই চক্রের শেকড় খুঁজে বের করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আদম পাচারকারীর মুলহতা সবার গডফাদার মতিউর,তাহার পরিচয় হলো সে কখনো মতিউর রহমান, কখনো জনি,কখনো পাটোয়ারী,আবার কখনো বা মিঠু,বিভিন্ন নামে প্রতারনা করে আসছে যিনি পাটোয়ারী,মিঠু এবং জোন নামেও পরিচিত বলে জানা যায়,বাংলাদেশের নোয়াখালী এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে পূর্ব লন্ডনে (East London) বসবাস করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে মানবপাচার ও অভিবাসন জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি অনুযায়ী,তিনি লিবিয়া থেকে গ্রীস পর্যন্ত অবৈধভাবে মানুষ পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং প্রতিজনের কাছ থেকে প্রায়১১ লক্ষ থেকে ১৩ লক্ষ টাকা করে গ্রহণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে যে,এমন এক যাত্রায় সিলেটের কয়েকজন তরুণসহ একাধিক ব্যক্তি চরম মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন—খাদ্য ও পানির তীব্র সংকটে পড়ে। এসব পরিস্থিতিতে সমুদ্রে একাধিক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে যে,যাত্রার ক্ষেত্রে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। বড় ও নিরাপদ নৌকার পরিবর্তে ছোট নৌকা ব্যবহার করা হয় এবং যাত্রীরা আপত্তি জানালেও তাদের জোরপূর্বক পাঠানো হয়,কোনো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই।

এছাড়া,যুক্তরাজ্যে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে। বলা হচ্ছে, তিনি কেয়ার ওয়ার্কার ভিসা এবং বৈধ চাকরির আশ্বাস দিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করতেন, কিন্তু বাস্তবে ভুয়া বা অবৈধ Certificate of Sponsorship (CoS) প্রদান করা হতো।

উল্লেখ্য, এসবই অভিযোগ এবং এখনো কোনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তবে অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তা মানবপাচার ও অভিবাসন জালিয়াতির মতো গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর জন্য কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

কর্তৃপক্ষ সবাইকে অনুরোধ করছে—এ ধরনের কোনো প্রতারণা বা শোষণের শিকার হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করতে।