

ফয়সাল, স্টাফ রিপোর্টারঃ
তীব্র গরমের মধ্যে ধুনট উপজেলায় লাগামহীন লোডশেডিং জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ধুনটে বিদ্যুতের সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। একের পর এক লোডশেডিংয়ের কারণে দিনের পাশাপাশি রাতেও জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা, তীব্র লোডশেডিং এর প্রভাবে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্নতা সৃষ্টি হচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায় সোমবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ২টা ৩০ মিনিটে লোডশেডিং শুরু হয়ে বিদ্যুৎ আসে বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে। এরপর সন্ধ্যা, রাত ও গভীর রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ বন্ধ ও চালু হয়। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত কয়েক দফা লোডশেডিংয়ের পর সকাল ও দিনের বিভিন্ন সময়ও একই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে। বুধবার (১৫ এপ্রিল)ও একই চিত্র দেখা যায়-দিনের শুরু থেকে রাত পর্যন্ত একাধিকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে স্থানীয়রা।
তীব্র গরমে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পোলট্রি খাত ও শিল্প উৎপাদন এবং ক্ষুদ্র উদ্দোক্তরা। বিদ্যুৎ না থাকায় খামারগুলোতে বাধ্য হয়ে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে কয়েকগুণ। পাশাপাশি অতিরিক্ত গরমে অনেক মুরগি অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানান খামারিরা।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা শহরের কিছু এলাকায় বিশেষ দিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। এতে বৈষম্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। ধুনট থানার সামনে কম্পিউটার ও ফটোকপি ব্যবসায়ীরা জানান, সময়ের নিকৃষ্ট বিদ্যুৎ বিভ্রাটে আমাদের ব্যবসার চরম ক্ষতি সাধিত হয়েছে। লোডশেডিং এর প্রভাবে একাধিক কম্পিউটার ও ফটোকপি মেশিন নষ্টের ঘটনা ঘটেছে। যা আমাদের ব্যবসাকে বিপাকে ফেলেছে।
দেশের জ্বালানি মন্ত্রী এবং সরকার পক্ষ থেকে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহের কথা বলা হলেও বাস্তবতা পুরোটাই ভিন্ন। বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রভাবে, দেশে চলছে চরম জ্বালানি সংকট, পেট্রোল ডিজেলের জন্য মোটরসাইকেল চালক ও কৃষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে। জ্বালানি সংকটে দেশ কোথায় যাবে, তা এখন সময়ের ব্যাপার।
আপনার মতামত লিখুন :